ইন্দো-বাংলার আইপিও আবেদন শিগগিরই

0
2446

সিনিয়র রিপোর্টার : ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নামে ১১ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের বরিশাল শাখায় ঋণ পরিশোধ না করায় সব মিলে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি টাকা।

আদালতে এমন অভিযোগ করায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রক্রিয়ায় চলতি বছরর ১৮ মার্চ ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন চেম্বার আদালত। এদিকে ইন্দো-বাংলা কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আদালতের স্থগিতাদের তুলে নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডে সঙ্গে সমঝোতা হবে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত সব জটিলতার অবসান হবে। ইতোমধ্যে টাকা আদায়ে অর্থঋণ আদালতে যে মামলা করা হয়েছে সমঝোতার মাধ্যতে তা তুলে নেবে ন্যাশনাল ব্যাংক।

আদালতে ন্যাশনাল ব্যাংকের অভিযোগ, তথ্য গোপন করে প্রোপ্রাইটরশিপ কোম্পানিকে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করে শেয়ার বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন নিয়েছে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। বিষয়টি আইনসম্মত না হওয়ায় আইপিও স্থগিত রাখা হোক।

এদিকে আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর চলতি সপ্তাহে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আপিল করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করে।

এরই প্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে কোম্পানির আবেদনটির প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখান থেকে আপিল আবেদনটি উচ্চ আদালতের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির কথা বলে দেয়া হয়। অর্থাৎ চেম্বার বেঞ্চের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়নি। এ কারণে এপ্রিল মাসের শুরুতে আইপিও চাঁদা গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও তা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলে চাঁদা গ্রহণের পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পূর্ববর্তী নাম ছিল ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কস। সে নামেই ব্যাংকের কাছ থেকে কোম্পানিটি ঋণ নিয়েছিল। কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক এতে গ্যারান্টর ছিলেন। কিন্তু ঋণ পরিশোধ না করায় তারা ব্যাংকের কাছে খেলাপি বিবেচিত হয়েছেন।

এ কারণেই বরিশালের অর্থঋণ আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার ঋণখেলাপির মামলা করা হয়েছে। পরিচালক খেলাপি ঋণের গ্যারান্টর হওয়ায় চেম্বার আদালতে তাদের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিতেরও আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্দো-বাংলা ফার্মার কোম্পানি সচিব শামীম গাজী বলেন, অর্থঋণ আদালতে আমাদের কোম্পানির সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো মামলা নেই। কোম্পানির পরিচালকরাও ঋণখেলাপি নন। তারা যে ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো ঋণের গ্যারান্টর ছিলেন না, এ বিষয়ে একটি মামলাও চলমান। আমাদের পরিচালকরা যদি ঋণখেলাপি হতেন, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে উঠে আসত। আমরা আপিল করেছি।

আশা করছি, উচ্চ আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হব যে, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বা এর কোনো পরিচালকই ঋণখেলাপি নন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমরা আইপিও প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে আইনি জটিলতায় আপাতত চাঁদা গ্রহণ শুরু করা যাচ্ছে না।

ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার কলেজ রোডে কোম্পানিটির কারখানা অবস্থিত। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাদের কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। কোম্পানিটি দেশের বাজারে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া অন্য ক্যাটাগরির ওষুধ উৎপাদন করে। তাছাড়া ওষুধ প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিকও উৎপাদন করে তারা। এর বাইরে ভেটেরিনারি ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।

আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত ২০ কোটি টাকার মধ্যে কারখানা, প্রশাসনিক ভবন, গুদাম ও গ্যারেজ নির্মাণ খাতে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ও আইপিও খরচ খাতে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় করবে কোম্পানিটি। আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে তহবিল ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে এ কোম্পানির ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে, আইপিও-পূর্ব শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা। সে বছর ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ১১ টাকা ৬৩ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here