ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের ‘আমলনামা’, আবেদন ১৮ মার্চ থেকে

0
2203

সিনিয়র রিপোর্টার : ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের মাদার কোম্পানি হলো- ‘ইন্ট্রাকো’। জাহানারা রিয়েল এস্ট্রেট থেকে ‘Jahanara Real Estate’ ইন্ট্রাকোর উত্থান। কোম্পানিটির ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম উত্থান হয়।

গ্রুপ অব কোম্পানিটি সম্পর্কে বিভিন্ন স্থান, ব্যাক্তি এবং ওয়েবসাইটে দেয়া প্রতিবেদন অনুসন্ধান করে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হলো। যা বিনিয়োকারীদের জন্য বিনিয়োগে অনেক সহায়ক হবে।

গ্রুপ অব কোম্পানির এখন মোট ২২ টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইন্ট্রাকোর মূল কোম্পানি ‘Jahanara Real Estate’ এর ১০০টি বেশি প্রকল্প ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লায় সম্পন্ন হয়েছে। মূল কোম্পানি রিহ্যাবের গর্বিত সদস্য।

গ্রুপের ২২টি কোম্পানির মধ্যে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড প্রথম সারির একটি কোম্পানি। ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড (আইআরএসএল) সারা বাংলাদেশে স্টেশন নির্মাণ ও অপারেশন সম্পন্ন করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ৩২টি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন চলমান রয়েছে। (নিচের ছকে দেখুন)

বিভিন্ন স্থানের সিএনজি স্টেশন

বর্তমানে ১৭ টি সিএনজি রিফ্রিলিং স্টেশন কমিশনের মাধ্যমে চলছে। এসব মেশিন পরিচালনায় কোরিয়া এবং ক্যাসাস গ্লোবাল ইনকর্পোরেটেডের কোয়ান শিন মেশিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। স্টেশনগুলিতে ‘ফাস্ট ফিলিং’ প্রযুক্তির প্রবর্তন করে অল্প সময়ে দ্রুত সিএনজি যানবাহনে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পেয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। কোম্পানিটি ১০ টাকা ইস্যু মূল্যে কোম্পানির আইপিও আবেদন আগামী ১৮ মার্চ শুরু হয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে। বাজারে এজন্য ৩ কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়বে।

গ্রুপের কোম্পানিগুলো হলো- ইন্ট্রাকো প্রোপারটিজ লিমিটেড, ইন্ট্রাকো সিএনচি লিমিটেড, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, ইন্ট্রাকো রেডিমিক্স কোম্পানি লিমিটেড, ইন্ট্রাকো বাটারফ্লাই পার্ক লিমিটেড, হোটেল আগ্রাবাদ- চিটাগং,  ইন্ট্রাকো কোকোনাট গার্ডেন রিসোর্ট- কক্সবাজার, ইন্ট্রাকো আলট্রা ফার্মা লিমিটেড, ইন্ট্রাকো ইনার্জি লিমিটেড।

গ্রুপের তালিকায় আরো রয়েছে- ইন্ট্রাকো এগ্রোপ্রোডাক্টর্স লিমিটেড, জেনিটিক, ইন্ট্রাকো টেলিকম লিমিটেড, ইন্ট্রাকো সিলিন্ডার রিটেস্ট লিমিটেড, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস সাপ্লাই, ডাইস ইন হোটেল, ইন্ট্রাকো মেরিন ডিভিশন, ইন্ট্রাকো ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, ইন্ট্রাকো এলপিইজি অটোগ্যাস লিমিটেডসহ আরো অনেক কোম্পানি।

ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলিত টাকায় এলপিজি বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং আইপিও সংক্রান্ত খাতে ব্যয় করবে। বিগত ৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) দাড়িয়েছে ১৩ টাকা ৮৭ পয়সা।

আইপিও অনুমোদন পাওয়া ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.০৪ টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ০.৩৩ টাকা।

গত বছরের তুলনায় ইপিএস কমার কারণ হিসেবে কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বকেয়া কর পরিশোধের কারণে আইপিও পরবর্তী কালে ইপিএস কমেছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, শেয়ার প্রতি সমন্বিত প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৩.৯১ টাকা যা ৩০ জুন ২০১৭ শেষে ছিল ১৩.৮৭ টাকা। শেয়ার প্রতি কার্যকর নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ০.৫৪ টাকা।

ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের এককভাবে প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ০.৭৪ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ০.০৫ টাকা। এনএভি হয়েছে ১১.২৩ টাকা এবং এনওসিএফপিএস হয়েছে ০.২২ টাকা।

ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের আইপিও সম্পর্কে অনেক আশাবাদী ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এএফসি ক্যাপিট্যাল লিমিটেডের সিইও মাহবুব মজুমদার। তিনি বলেন, বাজারে আইপিও সঙ্কট চলছে। যা বাজার উন্নয়নের জন্য আইপিও খুবই দরকার। তবে বিনিয়োগকারীরা চান, ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হোক।

আমি মনে করি, দেশের শ্রেষ্ঠ ১০ কোম্পানির মধ্যে ইন্ট্রাকো গ্রুপ ভালো মানের কোম্পানি। বিনিয়োগকারীরা এখানে থেকে ভালো কিছু পেতে পারেন। কারণ, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিষদ, কোম্পানির আয় এবং সম্ভাবনা অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে এএফসি ক্যাপিট্যাল ও এশিয়ান টাইগার ক্যাপিট্যাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here