“ইনভেস্টমেন্টের জ্ঞানেই বড় ক্যাপিটাল”

0
1506
sdr

ইমরান হোসেন: ইনভেস্টমেন্টের জ্ঞানেই একটি বিরাট কাাপিটাল যা বিনিয়োগকারীর মূল ক্যাপিটালকে ঝুঁকিমুক্ত করে প্রফিট করতে সাহায্য করে। নিজের মূলধনের নিরাপত্তায় সর্ব প্রথম নিজেকে সচেতন হয়ে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি গ্রহণ করতে হবে। ঝুঁকি তখনই আসে যখন আমি কী করছি, সেটা আমি নিজেই জানি না।

বিসেকের  চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন

শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত  বাংলাদেশ ইনিস্টিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএমে) কর্তৃক আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট উইক ২০১৭ উপলক্ষে “ প্রমোট ইনভেস্টর প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ থ্রো গুড গর্ভানেন্স এন্ড রেগুলেটরি মেজারস” শীর্ষক সেমিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম. খায়রুল হোসেন  উল্লিখিত বক্তব্য রাখেন।

সেমিনার মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ ইনিস্টিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম)  বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ  আব্দুল হান্নান জোয়ারদার। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, আইডিএলসিয়ের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আরিফ খাঁন এবং ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী।

মূলপ্রবন্ধে বাংলাদেশ ইনিস্টিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম)  এসোসিয়েট প্রফেসর নিতাই চন্দ্র দেবনাথ বর্তমান বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রাসঙ্গিক ইনভেস্টর প্রটেকশন, শেয়ারহোল্ডারের অধিকার, রেগুলেটরি বোডির ভূমিকা, রেগুলেটরির  অর্জন, অডিট ফার্মের ভূমিকা, বোর্ড অফ ডাইরেক্টরে ভূমিকা, আইপিও, মার্জিন লোন, কোম্পানির ইফর্মেশন পাওয়ার সমান সুযোগ ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণামূলক প্রতিবেদন এবং সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।

সিরিয়ালে বামে সঞ্চালনক বিআইসিএমের প্রভাষক মো. হাবিবুল্লাহ , সেমিনারের মূলপ্রবন্ধে উপস্থাপক প্রফেসর নিতাই চন্দ্র দেবনাথ, আরিফ খাঁন, মডারেটর  মোহাম্মাদ  আব্দুল হান্নান জোয়ারদার, ড. স্বপন কুমার বালা, আহমেদ রশিদ লালী।

প্যানেল আলোচনায় ড. স্বপন কুমার বালা বলেন ,‘ প্রফিট করলে কোন সমস্যা নাই, সমস্যা শুরু হয় লস করলে। যদি কেউ ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার কিনে লচ করে তার দায় কে নিবে? যে মরতে চাচ্ছে তাকে বাঁচাবে কে? বলেইতো দেয়া আছে শেয়ারটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাহলে আপনি কেন অধিক ঝুঁকি নিচ্ছেন? নিজের বড় প্রটেকশন নিজের কাছে।’ এ কারণেই ফাইন্যান্সিয়ার লিটারেসি প্রয়োজন।

সেমিনার মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে বাংলাদেশ ইনিস্টিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম)  বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ  আব্দুল হান্নান জোয়ারদার।

আরিফ খাঁন বলেন, স্বাধীন ডাইরেক্টর আমাদের দেশে যেখানে মাত্র ২০% সেখানে আমাদের পাশের দেশ ভারতেও প্রায় ৫০%।  আমাদের দেশের ২০% স্বাধীন ডাইরেক্টর থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের বন্ধুবান্ধব। আমাদের দেশে ৮০% ইনসাইডার ট্রেডিং হয় বলে দাবি করে এটা বন্ধে রেগুলেটরি বোডির আরও কার্যকারী ভূমিকা আশা করেন।

ক্যাপিটাল মার্কেট সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ইনিস্টিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেটের (BICM) থেকে প্রশিক্ষণ নেয়াটা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন  সকল মার্কেট ইনটারমিডিয়েট বা অথরাইজ ডিলারদের বাধ্যতামূলক করতে পারে। কারণ বাস্তবে বিনিয়োগকারীরা তাদের কথায় গুরুত্ব দিয়ে শেয়ার ক্রয় করে ফলে তাদের এ বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকতে হবে।

ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী সেমিনারের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাধীন ডাইরেক্টর সম্পর্কে বলেন  স্বাধীন ডাইরেক্টর সংখ্যা শুধু ৫০% বাড়ালেই হবেনা তাদের গুনগতমান মান বাড়াতে হবে। ব্যবসা বুঝেন এমন ব্যক্তিকে স্বাধীন ডাইরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তিনি বলেন ডিএসইতেই ৫০% স্বাধীন ডাইরেক্টর আছেন যারা ব্যবসা বুঝেন না। কারণ হিসেবে একটি আইনের কথা বলেন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের একাংশ

ব্রোকারেজ  হাউজদের মালিকদেরকে সচেতন করে তিনি বলেন আপনারা ২০১০ সালে ইনভেস্টমেন্ট, ব্রোকারেজ ব্যবসা বাদ দিয়ে আপনারা ইন্টারেস্টের ব্যবসায় নেমেছিলেন। ফলে বাজার সাফার করেছে। ১৬ হাজার কোটি টাকা নেগেটিভ ইকুইটি হয়েছিল। যেটা বর্তমানে ৭ হাজার কোটি টাকা নেগেটিভ ইকুইটি হিসেবে আছে। ২০১০ সালে যারা রাস্তায় নেমেছিম তারা অধিকাংশ মার্জিন লোনধারী।

ব্রোকারেজ  হাউজদের মালিকদেরকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মার্জিন লোন দেয়ার আগে ক্লায়েন্টের অবস্থা যাচাই করে মার্জিন দিবেন। আর বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন সঞ্চয়ের সব টাকা ইকুইটি মার্কেটে বিনিয়োগ না করে কিছু টাকা অন্যান্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুন। নিজের পুঁজির নিরাপত্তার সর্ব প্রথম দায়িত্ব নিজের। নিজেকে ফাইন্যান্সিয়ার লিটারেসি গ্রহণ করে প্রথমে যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অন্যকে দোষ দিয়ে লাভ হবে না। নিজের প্রটেকসনের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল প্লানিং করতে হবে।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের একাংশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here