ইউনাইটেড পাওয়ার : ৩৭টি প্রাতিষ্ঠানের ৮৩ কোটি টাকার ক্রয়াদেশ

0
848
এসবি ডেস্ক : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার পেতে বিডিংয়ে (নিলাম) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিডিং প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় দিন সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন দরে মোট ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭০০ শেয়ারের ক্রয়াদেশ দেয়া হয়। যার দর দাঁড়ায় ৮৩ কোটি ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৩০০ টাকা। বিডিং প্রক্রিয়াটি মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত টানা চলবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ডিএসইর বিডিং প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, রোববার থেকে সোমবার রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত ৩৭ জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারের দরপ্রস্তাবে অংশগ্রহণ করেন। কোম্পানিটির আয় ভালো থাকায় শীর্ষ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

আর ডিএসইতে কোম্পানিটির বিডিং পর্যালোচনা করেও বিষয়টি উঠে আসে। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ৬০ টাকা নির্ধারণের অনুমোদন পেলেও উল্লিখিত সময় পর্যন্ত ২৫ জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিটি শেয়ার সর্বোচ্চ দরে ৭২ টাকা করে মোট ১ কোটি ১২ লাখ ২১ হাজার শেয়ার কেনার প্রস্তাব করেছেন, যার মূল্য দাঁড়ায় ৮০ কোটি ৭৯ লাখ ১২ হাজার টাকা।

এছাড়া ৭০ টাকা করে ৬ হাজার, ৬০ টাকা ১০ পয়সা করে ৩ হাজার, ৬০ টাকায় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭০০, ৫৫ টাকায় ২ হাজার, ৫০ টাকায় ১ লাখ ২০ হাজার ও ৪৮ টাকা করে ১০ হাজার শেয়ার কেনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রস্তাব দেয়। সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭০০ শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়। যদি সর্বোচ্চ মূল্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত ১ কোটি ৩২ লাখ শেয়ার ক্রয়ের আদেশ আসে, তাহলে সেটিই হবে কাট অব প্রাইস এবং সেটিই আইপিওর ইস্যু মূল্য হবে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ৬০ টাকায় নির্ধারণের অনুমোদন পায়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী, বিডিংয়ে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ উপরে বা নিচে শেয়ারদরের প্রস্তাব করতে পারবেন। নিলামে অংশগ্রহণ করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে দরপ্রস্তাবের সঙ্গে প্রস্তাবিত শেয়ারের ক্রয় মূল্যের ২০ শতাংশ অর্থ নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪০ শতাংশ সংরক্ষিত রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির পর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার বরাদ্দে প্রসপেক্টাস প্রকাশ করবে কোম্পানি।

ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৩ কোটি ৩০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। ছয় ক্যাটাগরির ২৮টি যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ৬০ টাকায় (৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ) সমর্থিত হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১০ টাকা ২১ পয়সা। কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধ, চলতি মূলধনের সংস্থান এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের ব্যয় নির্বাহ করবে।

প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি সরকারের নির্দেশে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিও অনুমোদন স্থগিত রাখে। পরে দেশীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনাসাপেক্ষে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধন করে নতুন বিধি তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতি সংশোধনের পর শেয়ার বিডিংয়ের অনুমোদন পাওয়া ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন প্রথম কোম্পানি। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। এ কোম্পানির রেজিস্ট্রার টু দ্য ইস্যু হচ্ছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। সূত্র : বণিক বার্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here