ইউনাইটেড এয়ার পরিচালকদের শেয়ার ধারণ ‍নিয়ে বাধ্যবাধকতা

0
1950
পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইউনাইটেড এয়ারের করা আবেদন গ্রাহ্য করেনি বিএসইসি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় শর্ত শিথিলে বিভিন্ন পক্ষের চাপেও সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন না ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালকরা।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালকরা বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা শিথিলের জন্য চেষ্টা চালায়।
গত ২১ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে বিএসইসির মতামত চান। জবাবে শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা সম্ভব নয় বলে সম্প্রতি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
বিএসইসির মতে, ২০১১ সালে পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ছিল নাজুক। তাই তাৎক্ষণিকভাবে সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে আপদকালীন একটি ব্যবস্থা হিসেবে পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশনা দেওয়া জরুরি ছিল। কারণ ওই সময় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ধারণকৃত শেয়ার ছিল খুব সামান্য। পাশাপাশি বাজারে শেয়ারের চাহিদাও ছিল কম।ফলে ওই সময় বাজারে একটি নেতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয় ছিল।

তাই বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নিজ নিজ কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম দুই শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা হয়। কোনো কোম্পানির পরিচালকদের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শিথিল বা প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়।

এর আগে ৩০ এপ্রিল ইউনাইটেড এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তসরিবুল ইসলাম চৌধুরী বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিএসইসি ও বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচ) সহায়তা চেয়ে চিঠি দেন। চিঠিতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ৭ ধরনের সহায়তা চায় প্রতিষ্ঠানটি।

সহায়তাগুলো হল- বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ২২ নভেম্বরের নির্দেশনা (২ শতাংশ শেয়ার ধারণ) থেকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে অব্যাহতি দেওয়া। বেবিচের মূল পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে কিস্তির ব্যবস্থা করা। বেবিচের সারচার্জ মওকুফ করা। প্রতিষ্ঠানটির বিকাশের জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রান্ত সকল প্রকার চার্জ আগামী পাঁচ বছরের জন্য মওকুফ করা। দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোকে কেনা মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ করা। এতে দেশীয় এয়ারলাইন্সটি টিকে থাকবে ও বিকশিত হবে বলে ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ দাবি করে।

সরকারের পক্ষ থেকে এ সব সহায়তা পেলে সকল বকেয়া পরিশোধ করতে সক্ষম হবে ইউনাইটেড এয়ার। এর ফলে সোয়া লক্ষাধিক সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষা হবে বলে ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ দাবি করে।

ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে ইউনাইটেড এয়ারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, কমিশন এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইতঃপূর্বের জারি করা সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।

ইউনাইটেড এয়ারের জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পরিচালকদের ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিএসইসিকে একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা জেনেছি, বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি কাজ করছে। তবে এখনও অব্যাহতির বিষয়ে কিছুই জানায়নি বিএসইসি।

তিনি আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ও বিএসইসির মতামত চেয়েছে। বিএসইসি মন্ত্রণালয়কে এখনও কিছু জানায়নি।

পেছনের আরো  খবর : ইউনাইটেড এয়ার ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে

আরো খবর : ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে সিএসইর নোটিশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here