ইউনাইটেড এয়ার উড্ডয়নে মহড়া

0
10779

শাহীনুর ইসলাম : ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের বিমান উড্ডয়নে (ফ্লাইড) ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে বিমান পরিচালনার জন্য (অপারেশন) ফ্লাইড ক্যাপটেন নিয়োগ, দেশের সব টিকেট কাউন্টার চালু এবং ৩০০ জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বোর্ডে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ট্যুরিজমকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অফিসগুলো চালু করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশের অনেক টিকেট বুথ বা কাউন্টারগুলো চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ইউনাইটেড এয়ারেওয়েজের বিশেষ একটি সূত্র মঙ্গলবার স্টক বাংলাদেশ এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিমানের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: সংগৃহিত

বিশেষ সূত্র জানায়, লন্ডনের ম্যানচেস্টার, সৌদি-আরবের মদিনা এবং জেদ্দা থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বিমান পরিচালনার সম্প্রতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইউনাইটেডের পরিচালনা পর্ষদ। বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি কোন কোম্পানির বিলাসবহুল এয়ারক্রাফট পরিচালনা এটি হবে প্রথম। শেয়ারের বিনিময়ে নেয়া এসব বিমানের ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

এদিকে, ৭টি বিমান ক্রয়ের আগে পরিদর্শনের জন্য এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে গত বছরের নভেম্বর মাসে আবেদন করে ইউনাইটেড এয়ার কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনবল সঙ্কটের কারণে এখনো পরিদর্শন করতে পারেনি। পরিদর্শন করতে ফের চিঠি প্রদান করা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্র তথ্য নিশ্চিত করে।

একইসঙ্গে চলতি মার্চ মাস বা আগামী মাসে বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে এসব বিমান আনার ব্যবস্থা করা হবে। স্টক বাংলাদেশকে এমন তথ্য জানান বেবিচকের ফ্লাইড এন্ড সেফটি বিভাগের উপ-পরিচালক (ডেপুটি ডিরেক্টর) প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আমাদের বোর্ড এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে বিমান পরিদর্শনের বিষয়টি দ্রুত বোর্ডে উঠবে এবং আশা করছি অনুমোদনও হয়ে যাবে।

বিমান পরিদর্শনের অনরোধ জানিয়ে নভেম্বরে আবেদন করা হলেও এখানো সাড়া দেয়নি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সাড়া না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে অফিসে সাক্ষাতে কথা বলার আহ্বান জানান প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী।

বিমান অপারেশনে (উড্ডয়ন) অনুমতি রয়েছে। নতুন আরো ৭টি বিমান বহরে যোগ হওয়ার আগে শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ।

বিমান পরিচালনায় দক্ষ একজন বিদেশি ক্যাপটেন নিয়োগ, জনবল বৃদ্ধি এবং কাউন্টার চালুর বিষয় বোর্ডে চূড়ান্ত হয়। এর আগে চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ‘সিনিয়র এডভাইজার’ হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আসাব উদ্দিনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

এশিয়া মহাদেশে ১৯টি বিমান নিয়ে সেরা অবস্থান দখলের আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী। তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, সিভিল এভিয়েশনের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নতুন করে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেতে পারব। আমাদের জনবল অনেক সঙ্কট ছিল, ইতোমধ্যে অনেকটা পূরণ হয়েছে এবং আরো প্রায় ৩০০ বিভিন্ন পদের জন্য লোক নিয়োগ করা হবে।

এদিকে, বিমানের ব্যবস্থাপনা হিসেবে ঢাকায় ৭টি অফিস, চট্টগ্রামে ৪টি, সিলেটে ২টি, কক্সবাজারে ২টি, যশোর জেলায় ৩টি, খুলনা, বারিশালে ২টি অফিস চালু রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে একটি করে অফিস পরিচালনা করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এসব কাউন্টার চালু করা হয়েছে বলে জানায় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইড পরিচালনা করতে চলতি মার্চ মাসে ১১ টি দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ৩টি বিমান দিয়ে বাংলাদেশে (ডমেস্টিক) ফ্লাইড পরিচালনা করা হবে। উড্ডয়নে সক্ষম বিমানগুলোর ইতোমধ্যে সিচেক সম্পন্ন করা হয়েছে। বিমান উড্ডয়নের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের উইং কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

স্টক বাংলাদেশকে তিনি বলেন, রায়পুর থেকে ঢাকা, ঢাকা টু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং সিলেট অপারেশনে যেতে চাই। অপারেশন সক্ষম ৩টি এয়ারবাসের (MD 83=1, ATR72-212=2) সিচেক সম্পন্ন করা হয়। এসব পরিচালনার ব্যয়সহ অন্যান্য সাপোর্টও আমাদের রয়েছে।

বিমান পরিদর্শন সম্পর্কে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরী স্টক বাংলাদেশকে বলেন, ইউনাইটেড এয়ারের বিমান পরিদর্শন সম্পর্কে আবারো তারা চিঠি দিয়েছে। আমাদের বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। তারা যে সব শর্ত পূরণ করে চিঠি দিয়েছে, আশা করছি বোর্ডে ভালো ফল আসবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজধানীর কুর্মিটোলার হেডকোয়াটার্সে ১০ জানুয়ারি উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক সম্পন্ন হয়। বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ফি বাবদ ৫৫ কোটি টাকা বেবিচককে প্রদানের সম্মতি প্রদান করেছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এর মধ্যে বিমান উড্ডয়নের আগে ৫ কোটি এবং পরবর্তী কয়েক ধাপে বাকি টাকা প্রদানে সম্মতি প্রদান করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

নতুন রুপে বিমান পরিচালনা সম্পর্কে ইউনাইটেড এয়ারের চেয়ারম্যান তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী আরো বলেন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিমান পরিদর্শনে বিলম্ব করায় আমাদের বিলম্ব হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আমরা ভিষণ চেষ্টা করছি, সিভিল এভিয়েশন যতো দ্রুত পরিদর্শন শেষ করবে, আমরা ততো দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেতে পারব।

ইতোমধ্যে আমরা দেশের সব টিকেট কাউন্টার চালু করেছি বলেন এমডি।