ইউনাইটেড এয়ারে বিনিয়োগ এবং বাস্তবতা

0
9476

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী এবং পাঠকের মধ্যে বিনিয়োগ নিরাপত্তা, সম্ভাবনা এবং আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্টক বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। তাদের মতামত প্রকাশ করতে অনেকে অনুরোধও জানিয়েছেন।

তাই স্টক বাংলাদেশ তাদের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। তবে পাঠকের মতামত বা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া প্রকাশের জন্য দৈনিক স্টক বাংলাদেশ -এর সম্পাদক দায়ী নয়। এটা পাঠকের নিজস্ব মতামত-

  • আমি মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম (বাদল)। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের একজন সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং বেসরকারি একজন চাকরিজীবী। গত ৫ নভেম্বর ‘ইউনাইটেড এয়ার নিয়ে ‘তুমুল বিতর্ক’ শিরোনামে স্টক বাংলাদেশে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু কথা লিখেছিলাম। সে দিনের কিছু কথা এখন ফলতে শুরু করেছে।
  • আজ প্রতিষ্ঠানটি প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রাণে আনন্দ আসছে তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্যাপ্টেন ক্যাপ্টেন তাসবিরুল চৌধুরীকে। যিনি প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্টক বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড সম্পর্কে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সর্বদা সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে এবং আমার মতামত প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যর্থতা এবং কর্তব্য: ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের সবচে বড় ব্যর্থতা হলো ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারা । যার ফলে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পাওনা সময়মত পরিশোধ করতে পারেনি।

BSEC -এর নীতিমালার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির দারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরায় উজ্জীবিত বা বিমান উড্ডয়ন করতে এবং বাংলাদেশ বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে দেশের প্রথম সারিতে আসার জন্য কোম্পানির পরিচালকরা প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, উত্তরা শাখা মাত্র ৩৩ কোটি টাকার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ নিলামে তুলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পথে বসাতে চেয়েছিল। বিমান কর্তৃপক্ষ ঋণ রিসিউল করার জন্য আবেদন করলেও ব্যাংক তা মানেনি। ঋণ, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মূল্যর মাত্র ৫০ পয়্সা (শেয়ার প্রতি)।

আমার জানা মতে, ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিমান সংগ্রহ এবং উড্ডয়নে ৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। পরে নিলাম আদালতে পর্যন্ত গড়ালে বিচারক তা স্থগিতাদেশ দেন।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ল্যান্ডিং, পার্কিং ও নেভিগেশন চার্জসহ পাওনা টাকার পরিমাণ ৫৩ কোটি টাকা। তবে এসব চার্জ দেশীয় নিয়মে ধার্য না করে বিদেশী নিয়মে ধরা হয়েছে। যা এই খাতে আয়ের বিশাল অংশ চলে যায় জ্বালানী খরচ এবং ল্যান্ডিং চার্জে। এসব অসাঞ্জস্য ব্যয় সরকার জেনেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনা।

২০১৩ সালে বিমানের ল্যান্ডিং, পার্কিং ও নেভিগেশন চার্জ ফি মন্ত্রণালয় মওকুফ করলেও বেবিচক উল্টো টাকার দাবি করছে। মন্ত্রণালয়ে চার্জ ফ্রি বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও মানছে না বেচিক কর্তৃপক্ষ। আদালতে দায়ের করা হয় মামলা, এমডিসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালত জারি করে প্রেপ্তারি পরোয়ানা। কারণ হিসেবে বলা হয় চেক জালিয়তি। মাত্র ১ কোটি টাকা।

মজার ব্যাপার হলো- ল্যান্ডিং, পার্কিং ও নেভিগেশন ফি বাবদ প্রত্যেক বিমান সংস্থাকে আগাম চেক (অপ্রকাশিত বক্তব্য) দিয়ে রাখতে হয়। বেবিচক প্রত্যেক মাসে ননীর পুতুল হয়ে সেই টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করবে। আগাম দেয়া সেই চেক দিয়ে করা হলো জালিয়াতির মামলা। বিস্ময়কর!

আমি মনে করি- বেবিচক  ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের কাছে সামান্য কিছু টাকা পাবে। এতো কোম্পানির কাছে যা অতি অল্প। মনে হয়- তৃতীয় কোন শক্তি চায়না যে এই বিমান আবারো আকাশে উডুক। দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরান, যদি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বা আদালতের নির্দেশ বেবিচক মানে তবে আরো টাকা ফেরত দিতে হবে। তখন কেমন হবে?

আশা করি, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সাধারণ নিয়োগকারীদের স্বার্থে বিষয়গুলো সুবিবেচনায় রাকবেন। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি দেশ ও জাতির স্বার্থে ১,২০০ কোটি টাকার বেশি বাৎসরিক লেনদেন করছে এবং সরকাররে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব দিচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে আরো সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানটির সফলতা : BSEC প্রতিষ্ঠানটিকে ইতোপূর্বে ৬২৪ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে। এরপরে আবারো ৩১২ কোটি টাকা বিদেশের ৭টি কোম্পানির কাছ থেকে বিমান কেনার শর্তে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়। প্রতিষ্ঠানটির  ৭৭.৫৫% শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা BSEC উল্লেখিত টাকা অনুমোদনের ফলে (২১/১২/২০১৬) ৫৯৪তম সভায়  প্রতিষ্ঠানটিকে  ৭টি  বিমান ক্রয় করার অনুমোদন দেয়। ফলে সাধারণ  বিনিয়োগকারীদের  স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিতে যাচ্ছে। সেই সাথে কোম্পানির নতুন লোক বল নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশের বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে সব চেয়ে বড় বহরের বিমান সংস্তা হবে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। ইতোমধ্যে তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি, তবে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি হয়ত কোন একদিন বলবেন- আমরা অন্যকোন বিমানে চড়বো না। আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আমার দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টাকায় কেনা বিমানে আমরা উড়বো। সেই সময়ও আসছে, আজ হয়তো অনেকে কথাটি হেসে ওড়াবেন। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির দিকে একবার নেক-নজরে বা বিবেকের সব দুয়ার খুলে দেখুন- আমরা কী করতে পেরেছি এবং পারছি। অনন্ত সম্ভাবনায় আমার বাংলাদেশ।

তেমনি অনন্ত সম্ভাবনার দুয়ারে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড। হাল না ছেড়ে মুগ্ধ নয়নে একবার উন্নয়নের গতি দেখুন, বিস্ময়কর! আসছে অনন্ত সম্ভাবনা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY