স্টাফ রিপোর্টার : ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কোম্পানিটির নয় উদ্যোক্তা-পরিচালক ও তিন বিনিয়োগকারীকে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তাছাড়া হিসাব মান অনুসরণ করে যথাসময়ে বিলম্বিত কর দায় হিসাবভুক্ত না করার কারণে ইউনাইটেড এয়ারকেও সতর্ক করা হয়েছে। গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬১৭তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের উদ্যোক্তা-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, মো. আশিক মিয়া, মো. ইউসুফ চৌধুরী, মধুরীস আলী, সিদ্দিকা আহমেদ, খন্দকার মাহফুজুর রহমান ও তাহমিনা বেগম নিষেধাজ্ঞাকালীন শেয়ার লেনদেন করেছেন।

পাশাপাশি প্রকাশিত হওয়ার আগেই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য সম্পর্কে অবগত হয়ে শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সাত উদ্যোক্তা-পরিচালক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালার লঙ্ঘন করেছেন। এ কারণে তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জারিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

তাছাড়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের উদ্যোক্তা-পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী ও খন্দকার তাছলিমা চৌধুরী মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগেই অবগত হয়ে শেয়ার কেনাবেচা করে মুনাফা করেছেন। তাছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বাজার কারসাজিরও  প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এর মাধ্যমে তারা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালা ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ধারা ভঙ্গ করেছেন।

তাই সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের দায়ে কমিশন ক্যাপ্টেন তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী এবং খন্দকার তাছলিমা চৌধুরীকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে।

ইউনাইটেড এয়ারের উদ্যোক্তা-পরিচালক ছাড়াও আরো তিন বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে বাজার কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তারা হচ্ছেন— মো. সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা, আবু সাদাত মো. সায়েম এবং ইয়াকুব আলী খন্দকার। কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ ভঙ্গ করার দায়ে এ তিন বিনিয়োগকারীর প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে কমিশন।

তাছাড়া, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১২ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএসএস) অনুসারে বিলম্বিত কর দায় (ডেফার্ড টেক্স লায়াবিলিটি) হিসাব করেনি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এর ফলে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) অতিমূল্যায়িত করেছে, যা বাজারকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছে কমিশন। অবশ্য পরবর্তীতে কোম্পানিটি বিএসএস অনুসারে বিলম্বিত করা দায় হিসাব করেছে। তবে যথাসময়ে হিসাবমান অনুসরণ না করার কারণে কোম্পানিটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস ১৯৮৭ ভঙ্গ করেছে। সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ ও দেরিতে পরিপালনের কারণে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে সতর্ক করেছে কমিশন।

প্রেস রিলিজটির ২য় অংশটি নিচে দেওয়া হল-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here