ইউনাইটেড এয়ারের পূর্বাভাস!

20
9820

শাহীনুর ইসলাম ও আমিরুল মোমিনিন সাগর : বাংলাদেশি একটি বিমান কোম্পানির সঙ্গে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। ‘ডমেস্টিক এয়ার ফ্লাইট’ পরিচালনা নিয়ে নভেম্বর মাসে সমঝোতা স্মারক শেষে দুটি কোম্পানি যৌথভাবে (সিচেক সম্পন্ন) এয়ার পরিচালনা করবে।

কোম্পানির বোর্ড সভায় সমঝোতার বিষয়টি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিমানের বিশেষ একটি সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বোর্ড সভায় অনুমোদন হলে চলতি মাসেই ‘ডমেস্টিক এয়ার ফ্লাইট’ পরিচালনা নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। তবে কোন কোম্পানি, কি পরিমাণ শেয়ার ধারণ করবে এবং লভ্যাংশ বণ্টন নিয়েও কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

‘বিষয়টি আগামীতে পরিস্কারভাবে জানানো হবে’ বলে স্টক বাংলাদেশকে রোববার জানিয়েছেন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী। তবে ‘মূল্য সংবেদনশীল তথ্য’ হওয়ায় ‘সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর’ সম্পর্কে তিনি কোন মত প্রকাশ করেননি।

বিমানের বিশেষ একটি সূত্র জানায়, দুটি উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সময় পরে ইউনাইটেড এয়ার বোর্ড মিটিং করছে। দেশি বা বিদেশি কোন কোম্পানির সঙ্গে মার্চ করতে হলে কোম্পানির আর্থিক চিত্র প্রকাশ এবং উপস্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের ১৬ জুন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া ২২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বন্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করতেও ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ সালের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

ইতোমধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন সম্পূর্ণ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৯ নভেম্বর বোর্ড মিটিংয়ের কথা বলা হলে হলেও বিশেষ কারণে ‘ইউনাইটেড এয়ারের পরিবর্তিত বোর্ড মিটিং ১৬ নভেম্বর’ করা হয়। তবে দুটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইউনাইটেড এয়ার বলে কোম্পানির বিশেষ সূত্র তথ্য নিশ্চিত করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদেশ থেকে ৭টি বিমান আনার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চিঠি দিয়ে পরিদর্শনের অনুরোধ জানান ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের উইং কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ।

এয়ার বাসগুলো হচ্ছে- 1. A340-300: Qtz: 02, 2. ATR 72-500 Qtr:02. 3. MD-83 : Qtr:01 এবং এরমধ্যে A340-300 বিমান দুটি, ATR 72-500 Qtr:02 বিমান দুটি এবং MD-83 : Qtr:01 একটি বিমান পরিদর্শন শেষে দেশে আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তবে সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে ‘এটা বোর্ডের বিষয়’ বলেন উইং কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে তিনি স্টক বাংলাদেশ -এর সাংবাদিক আমিরুল মোমিনিন সাগরের সঙ্গে আর কথা বলতে রাজী হননি।

একই সঙ্গে ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বরাবর ‘তিন ধরণের বিমান উড্ডয়ন’ আবেদনও করা হয়। নীতিগতভাবে এসব প্রক্রিয়া সরকারিভাবে এগিয়ে গেলেও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কায় অন্য কোম্পানির সঙ্গে মার্চ করতে চলতি নভেম্বর মাসেই সমঝোতা চুক্তির পূর্বাভাস মিলেছে।

এভিয়েশন খাতের দুটি কোম্পানি এক সঙ্গে মার্চ বা বিমান অপারেশনের ক্ষেত্রে বেবিচক ইউনাইটেড এয়ার সম্পর্কে আপত্তি তুলবে না বলে আশা করছে এয়ার কর্তৃপক্ষ। যৌথ নামে ডমেস্টিক এয়ার অপারেশন করতে পারবে কি-না জানতে সোমবার সকালে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরীর মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেড ২২৪ কোটি টাকার বন্ডের প্রস্তাব ২০১৬ সালের ১৬ জুন অনুমোদন প্রদান করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান শেয়ার হোল্ডারদের বাইরে বন্ড ইস্যু করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বিএসইসির ৫৭৭তম কমিশন সভায় ৪শ’ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার এবং এরপরে ২২৪ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করে কমিশন। ২০১৬ সালে মোট ৬২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ইউনাইটেড এয়ারকে উত্তোলনের অনুমোদন দেয় কমিশন।

২২৪ কোটি বন্ডের টাকা উত্তোলন সম্পর্কে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের সিইও সোহেল রাহমান সম্প্রতি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, কোম্পানির বন্ডের টাকার ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিটি নিয়ে আইসিবি ভালো কিছু করবে। সম্ভাবনা ধরে নিয়েই আমাদের চেষ্টার সর্বোত্তম ব্যবহার আমরা করবো।

20 COMMENTS

  1. ইউনাইটেড এয়ার উডুক এটা আমাদের প্রত্যাশা।এর দিগন্ত হউক বিস্তৃত। এর দিগন্তে ছোয়া লাগুক উষার আলোর আভা। মুছে যাক অতীত গ্লানী।কোম্পানীটি সমৃদ্ধ হউক।লক্ষ লক্ষ্ বিনিয়োগকারীর মুখে হাসি ফুটুক।ধৈর্যের ফসল ঘরে আসুক।আবার এয়ারের আসর মুখরিত হউক।এর চলার পথের সকল কালো মেঘ দূর হয়ে যাক-এই কামনা।

  2. ইউনাইটেড এয়ারের কতৃপক্ষের নিকট আমাদের অনেক আশা ও প্রত্যাশা ।একের পর এক চমকপ্রদ খবর আসে ও আসিতেছে।ফলপ্রসু কোন কিছু দৃষ্টি গোচর হচ্ছে না।এটি মোটেও সুখকর নয়।একটি কোম্পানীর এমন বেহাল দশা কখনও কাম্য নয়।There is a saying, A rolling stone gather no moss.

  3. এয়ার কি উড়বে ?কতৃপক্ষের মতে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারীর প্রথম ভাগে অন্য কোম্পানীর সাথে চুক্তি হবে। লক্ষ্যনীয় যে এ পর্যন্ত যথগুলো খবর এসেছে প্রায় সবগুলোতে দেখেছি যে,হয় এ মাসে না হয় ওমুক মাসে।কেমন যেন শর্ত যুক্ত যা নিশ্চয়তা বহন করে না। এক লক্ষ বায়ান্ন হাজার বিনিয়োগকারী ভালো খবরের দিকে চেয়ে আছে।আছে না?কিন্তূ খবর ভাল কিছু বহন করতে পারেনি।

  4. ভাইসাব এত আভাস কোথায় পাওয়া যায় বা যাচ্ছে?শুধু আভাস আর আভাস।জুলাই/২০১৮ মাসেও আভাস পাওয়া গেছে।কিন্তু বাস্তবতার কোন গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না। আভাস হয়ে গেছে অভ্যাস।এর দাম মাত্র ৩.৩০টাকা/শেয়ার।৩.৩০ টাকায় এই কোম্পানির মালিকানা পাওয়া যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here