ইউনাইটেড এয়ারের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

0
4165

আদালত প্রতিবেদক : চেক প্রতারণার মামলায় পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত বেসরকারি এয়ারলাইনস সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরের পঞ্চম দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজিয়া নাহিদ এসব নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ২৯ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলার বিষয়ে জানতে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। অফিসে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায় এমডি দুদিন আগে বিমানের বিভিন্ন কাজে দেশের বাইরে গেছেন।

মামলায় অভিযুক্ত মুহম্মদ ফেরদৌস ইসলামের সঙ্গে সোমবার সকালে কথা হলে তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, আমি সেখানে চাকরি করতাম, এখন তো আর করি না। তবে আদালত ডাকলে অবশ্যই আমি হাজির হবো।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, চেক প্রতারণার একটি মামলায় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী এবং একই এয়ারলাইনস সংস্থার প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক মুহম্মদ ফেরদৌস ইসলামের বিরুদ্ধে ৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করার হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

এর আগে ওই একই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ১২ নভেম্বর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ ছিল। কিন্তু সে সময় তারা কেউ হাজির হননি, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

জানা গেছে, বেবিচকের করা ২ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৩০৪ টাকার চেক প্রতারণা মামলায় তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী ও মুহম্মদ ফেরদৌস ইসলামকে গত বছর (১২ নভেম্বর, ২০১৫ সাল) আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। গত বছরের ৮ অক্টোবর এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আতিকুর রহমান।

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ও ১৪০ ধারায় বেবিচকের পক্ষে মামলাটি করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।

এ প্রসঙ্গে বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন-অবতরণ ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে ভাড়া বাবদ শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে গত বছর মোট ৯০ কোটি ৮১ হাজার ১০৭ টাকা পাওনা ছিল।

এ অর্থের আংশিক পরিশোধের জন্য ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই ও ১৬ আগস্ট ২ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৩০৪ টাকার দুটি চেক দেন। চেক দুটি ছিল ইসলামী ব্যাংক উত্তরা শাখার। চেক দুটি ভাঙাতে সোনালী ব্যাংকের কুর্মিটোলা শাখায় জমা দেয় বেবিচক। তবে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের হিসাবে টাকা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।

তিনি বলেন, চেক প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা টাকা পরিশোধের উদ্যোগ না নেয়ায় গত ৩০ আগস্ট আইনি নোটিস পাঠানো হয়। নোটিস পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ না করে উল্টো হুমকি দেয় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here