সিনিয়র রিপোর্টার : নেপালে ইউএস বাংলার এয়ারক্রাফট দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাননি অনেকেই। নিহতদের উত্তরাধিকার নির্ণয়ে আইনি জটিলতা ও আহতদের চিকিৎসা শেষ না হওয়াকে এর পেছনের কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও বিধ্বস্ত এয়ারক্রাফটের জন্য অনেক আগেই ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিমার টাকা বুঝে পেয়েছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ কিউ ৮০০ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৪ জন ক্রু ও ৬৭ জন যাত্রীসহ মোট ৭১ জন আরোহী ছিলেন।

তাদের মধ্যে ৪ জন ক্রুসহ ২৭ জন বাংলাদেশি, ২৩ জন নেপালি ও একজন চীনা যাত্রী নিহত হন। আহত হলেও বেঁচে যান ৯ বাংলাদেশি যাত্রী। এ ছাড়া নেপালের ১০ জন ও মালদ্বীপের ১ জন নাগরিকও রক্ষা পান।

পুড়ে যাওয়া বিমান -ফাইল ছবি

ইউএস বাংলার এয়ারক্রাফট ও এর যাত্রীদের বিমা করা ছিল সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের কাছে। দুর্ঘটনার এক মাস পর এয়ারলাইন্সকে বিমানটির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়।

নিহত প্রত্যেকের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫১ হাজার ১২০ ডলার নির্ধারণ করে সংস্থাটি। বাংলাদেশি আরোহীর মধ্যে ২৩ জন ছিলেন যাত্রী। এ ছাড়া ছিলেন পাইলট আবিদ সুলতান, ফার্স্ট অফিসার পৃথুলা রশিদ ও ২ জন কেবিন ক্রু।

ককপিট ও কেবিন ক্রুদের দুটি ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। বিমানটির যাত্রী হিসেবে একটি, অন্যটি পার্সোনাল এক্সিডেন্ট পলিসির আওতায়। এ জন্য তারা অতিরিক্ত ৫০ হাজার ডলার করে পাবেন।

জানা গেছে, ৪ জন ক্রুর মধ্যে দুজনের পরিবারকে যাত্রী বিমা ও পার্সোনাল এক্সিডেন্ট পলিসির টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ক্রুদের মধ্যে আইনি জটিলতায় নাবিলার পরিবারকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স। পাইলট আবিদ সুলতানের পরিবারকে যাত্রী বিমার টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনো দেয়া হয়নি পার্সোনাল এক্সিডেন্ট পলিসির টাকা।

নিহত ১৯ জন বাংলাদেশির স্বজনদের কাছে বিমার অর্থ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে গত বছরের বিভিন্ন সময়ে। উত্তরাধিকার নির্ণয়ে জটিলতা ও কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে বাকি ৮ বাংলাদেশির পরিবার এখনো বিমার টাকা বুঝে পাননি। আহত ৯ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৬ জনকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে, এখনো বাকি আছে ৩ জন।

অন্যদিকে নেপালের আহতরা এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে জানা গেছে। শুধু নিহতদের মধ্যে ২ জনের পরিবারকে ৫১ হাজার ১২০ ডলার হারে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিক শামিম জানান, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হচ্ছে। এর দাবিদার কে হবেন, তা আদালত নির্ধারণ করছেন। এখনো অনেকের বিষয়ে নিষ্পত্তি হয়নি, আবার কারো কাগজপত্রে ত্রুটি আছে।

তিনি বলেন, এসব কারণে তাদের ক্ষতিপূরণ পেতে দেরি হচ্ছে। আহত নেপাল ও মালদ্বীপের যাত্রীরা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি, কারণ তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে নিহত চীনা নাগরিকের পরিবারও বাংলাদেশে এসে ক্ষতিপূরণ নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।

শফিক শামিম আরো বলেন, কেবিন ক্রুদের মধ্যে শারমিন আক্তার নাবিলার ক্ষতিপূরণ দেয়া যায়নি। কারণ তার পরিবার কোনো কাগজপত্র দিতে পারেনি। নাবিলার পরিচয়পত্রে এক নাম, চাকরিতে যোগ দেয়ার সময় দেয়া কাগজপত্রে আরেক নাম। আমাদের কাছে আদালতের রায় নিয়ে এলেই আমরা টাকা পরিশোধ করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here