আহমেদ অ্যান্ড আখতারের আরো ৪টি আইপিও অডিট রিপোর্টে সন্দেহ

1
766

সিনিয়র রিপোর্টার : শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও পেশাগত অসদাচরণের কারণে নিরৗক্ষা (অডিট) প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আখতারের সত্ত্বাধিকারী কাঞ্চি লাল দাসের এফসিএ লাইসেন্স বাতিল করে আইসিএবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিরিক্ষক হিসেবে অযোগ্য বলে ঘোষণা করে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠলে নিরীক্ষকদের প্রাথমিক রেগুলেটর আইসিএবিকে নির্দেশ দেয় ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)।

প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দেয়া হলেও কোনো নথিপত্র জমা দেয়নি, একই সঙ্গে আইসিএবিকে তথ্য সহায়তাও করেনি। যে কারণে গত সপ্তাহে আহমেদ অ্যান্ড আখতারের সত্ত্বাধিকারী কাঞ্চি লাল দাসের এফসিএ লাইসেন্স বাতিল করে আইসিএবি।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সম্প্রতি আসা আরো চারটি কোম্পানির নিরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। কোম্পানিগুলো হলো- সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ওইম্যাক্স ইলেকট্রনিক লিমিটেড।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠার পরে সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদেনে বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ায় কমিশনের নির্দেশনা সহনীয় রেখে নতুন করে আর্থিক হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসার আগে কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা (অডিট) করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যে কারণে কোম্পানিরগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য-পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে প্রতিটি কোম্পানিই আইপিওতে আসার আগে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ : চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএসইসি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করার অনুমতি দেয়।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় দেশের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এখনো তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়নি।

প্রসপেক্টাসের তথ্য অনুসারে, বাজার থেকে পুঁজি উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয় স্থাপনে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভবন ও ভবন নির্মাণে খরচ হবে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতায় গত সপ্তাহে আইসিএবির লাইসেন্স হারিয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আখতার চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। এর আগে বিএসইসিও প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার জন্য অযোগ্য বলে ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here