‘আস্থা ফেরাতে আইন হয়েছে, এখন প্রয়োগ করতে হবে’

1
773

আয়শা আক্তার সুরভী, (শ্রুতিলিখন) : বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে গত ১০ বছরে আইনের অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশন এবং ডিএসই-সিএসই সম্মিলিতভাবে বাজারের স্বার্থে এই পরিবর্তন এনেছে। স্টেক হোন্ডারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২২টির পরিবর্তন আনা হয়, এজন্য নেয়া হয়েছে জনমতও।

তবে কিছু আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়েনি বরং কমেছে। প্রত্যেক অপরাধীকে শান্তির আওতায় আনতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে- অপরাধী যেন আইনের ফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে না যান।

বেসরকারি একটি টেলিভিশনে মঙ্গলবার দুপুরে এসব কথা বলেন দেশের শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও মাহবুব হোসেন মজুমদার।

টেলিভিশনে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঈদের কয়েকদিন আগে স্বাভাবিক বাজার বলতে যা বুঝায় সেই অবস্থায় আসা শুরু করেছিল। ঈদের আগে প্রায় ৭.৬% মার্কেট আপ হয়। গত এক সপ্তাহে ডিএসইর প্রায় পিই রেশিও আগের তুলনায় .১৬ পয়েন্ট বেড়ে বা ১.১৮% শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩.১৭। বর্তমানে বিনিয়োগ করার শ্রেষ্ঠ সময়।

তিনি বলেন, আমাদের আইনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্টেক হোন্ডারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২২ টি পরিবর্তন আনা হয়েছে, এজন্য নেয়া হয়েছে জনমতও। কেউ যদি কোন অপরাধ করেন তাকে কেপিট্যাল পানিসমেন্ট না দিলে শৃঙ্খলা নষ্ট হবে, তাও করছে কমিশন।

স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তিনি বলেন, গত জানুয়ারি মাসের ১৮ কার্যদিবস অনেক ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারপরে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হলো। উঠে এলো বিভিন্ন অভিযোগ। কথা হলো- বিভিন্ন কারসাজি এবং অপরাধ প্রক্রিয়াকে বন্ধ করতে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু অপরাধী যদি আইনের ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায় তাহলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। আমরা আশা করি, অপরাধী শাস্তি পাক।

আমাদের প্রচুর আইন আছে, গত ১০ বছরে অনেক আইনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশন এবং ডিএসই-সিএসই মিলিতভাবে এই পরিবর্তন এনেছে। প্রয়োগ না হওয়ায় বিনিয়োগ কারীর আস্থা কমছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সূচকের উত্থান পতন সম্পর্কে তিনি বলেন, সূচক দেখে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত বা উৎসাহিত হচ্ছেন। এ ব্যাপার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মাথায় সাইকোলজিভাবে যে প্রভাব ফেলছে তা সঠিক না। সূচক একটা অবজারভেশন, এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আপনার শেয়ার কোন সেক্টরে বিনিয়োগ করেছেন, সেটা দেখেন। সূচক বাড়ল বা কমল তাতে কি আসে-যায়।

সিইও মাহবুব হোসেন মজুমদার বলেন, আতঙ্কিত হবেন না। ৪-৫ মাস পূর্বে নেগেটিভ বিষয়গুলো এতো বেশী প্রচার করা হয়েছে সে কারণে আতঙ্কগ্রস্থ হন অনেকে। ক্যাপিটাল মার্কেট সংবেদনশীল স্থান, ভুল বা মিথ্যে তথ্য প্রচার করা হলে বাজার আরো বেশী অস্থিতিশীল হয়।

মার্কেটে নিয়ে মিছিল বা মিটিং করা হলে বিনিয়োগকালীরা অর্থনৈতিকভাবে আরো ক্ষতিগ্রস্থ হন জানান তিনি।

ক্যাপিটাল মার্কেটে যে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলো ছিল- সেন্টাল ব্যাংকের সাথে ভুল গনণা বা পদ্ধতির সমাধান হয়েছে। অন্যতম বিষয় হলো- ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে বাজেটে যে ট্যাক্সের দ্বৈত্যনীতি ছিল তা উঠে গেছে।

ইতোমধ্যে অনেক নেগেটিভ বিষয় উঠে গেছে এবং যাচ্ছে। মার্কেটে কিভাবে পজেটিভ করা যায় সে বিষয়ে সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন ছিল। মার্কেট নিয়ে যাতে গুজব না আসে, তবেই সুন্দর গতিশীল ক্যাপিটাল মার্কেট আমরা দেখতে পাবো।

যারা আইন বর্হিভূত কাজ করেছে বা জড়িত ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তাদের দৃশ্যমান শাস্তি দিয়েছে। সেটাও ক্যাপিটাল মার্কেটে আস্থা ফেরাতে অবদান রাখবে।

সম্প্রতি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি কি পেলেন, তা পজেটিভ মার্কেটের স্বার্থে তারা আশা করি দ্রুত তা প্রকাশ করবেন। মূলকথা হলো- মিথ্যা তথ্য পরিবেশন বা অন্যায়ভাবে ট্রেডিং করা যাবে না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here