আসছে এনার্জিপ্যাকের আইপিও

0
3783

শাহীনুর ইসলাম : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসছে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড (ইপিজিএল)। কোম্পানির ‘চূড়ান্ত রিভিউ ফাইল’ উপস্থাপন শেষ হওয়ায় শিগগিরই বিডিংয়ের অনুমোদন পেতে পাচ্ছে কোম্পানিটি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিশেষ একটি সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে রানার অটোমোবাইল লিমিটেডকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর আগে আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেড ৮০ কোটি টাকা এবং বসুন্ধরা পেপার মিলসকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

‘বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে অনুমোদন পাচ্ছে সব কোম্পানি। রানার অটোমোবাইল লিমিটেডের বিডিং শেষ হলে ফাইল বিবেচনায় রয়েছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার। পর্যায়ক্রমে অনুমোদন পাবে -বলে আভাস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষ সূত্র।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড (ইপিজিএল) আইপিওর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে গত বছরের অক্টোবর মাসে রোডশো সম্পন্ন করেছে। উত্তোলিত অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হবে কোম্পানির এলপি গ্যাস ব্যবসার সক্ষমতা বাড়াতে।

রোডশো এবং আইপিও নিয়ে কথা হলে সম্প্রতি কোম্পানির সেক্রেটারি আলাউদ্দিন শিবলী বলেন, রোডশো শেষে চূড়ান্ত রিভিউ ফাইল কমিশনে জমা দেয় হয়েছে। বিধিসম্মত হলে কমিশন অবশ্যই অনুমোদন দেবেন বলে আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, স্টক মার্কেটে ভালো কোম্পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাজারে যে আস্থাহীনতার সংকট চলছে, ভালো কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে সে সঙ্কটহীনতার সমাধান দেবে। দেশের প্রথম সারির কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে একমাত্র কোম্পানি এনার্জিপ্যাক -ইপিসির জনক।

তাই কোম্পানি দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তিত হওয়ার বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন খুলনার দাকোপে একটি এলপিজি প্ল্যান্ট করেছে। ইতোমধ্যে এতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা জি গ্যাস নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্ল্যান্টে এলপিজি সংরক্ষণ ও বোতলজাত করার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিপুল বিনিয়োগ দরকার। অর্থের চাহিদা মেটাতে কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে বাজারে শেয়ার বিক্রি করবে।

রোড শোতে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশিদ বলেন, আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে, ৪৮ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ এবং বাকী অর্থ আইপিও প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হবে।

প্রসপেক্টাস অনুসারে, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি প্রস্তুত ও সেবা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি কোম্পানিটি একাধিক স্বতন্ত্র পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে।

ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট ও কনস্ট্রাকশন বিভাগ, মটর ভেহিক্যাল বিভাগ, কনস্ট্রাকশন মেশিনারিজ ও ম্যাটেরিয়াল বিভাগ, এগ্রো মেশিনারিজ ডিভিশন, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ডিভিশন, এলপিজি ডিভিশনসহ অনেকগুলো কোম্পানি গ্রুপের মাধ্যমে চলমান রয়েছে। প্রতিটি কোম্পানিটি অনেক ভালো করছে।

২০১৬-১৭ হিসাববছরে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা, আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ২০১৬-১৭ হিসাববছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here