স্টাফ রিপোর্টার : অগ্নিকাণ্ডের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শুক্রবার আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। সকালে অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে মেরামত শেষে ৬ ঘণ্টা পর বিকাল থেকে আবার তা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২ কেভি গ্রিড লাইনের সুইচ ইয়ার্ডে গতকাল সকালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে দেশের পাঁচ জেলায় তাত্ক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প ব্যবস্থায় এটি চালু করা হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে আসে প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট।

এর পর টানা ৬ ঘণ্টার মেরামত শেষে শুক্রবার বিকাল থেকে এ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২ কেভি গ্রিড লাইনের সুইচ ইয়ার্ডে আগুন ধরে যায়। ফলে একে একে বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট। বন্ধ হওয়া ইউনিটগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৭৭৫ মেগাওয়াট।

ইউনিট তিনটি হলো— ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট ও ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তিন নং ইউনিট। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিড লাইনেও ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় অন্য একটি গ্রিড লাইন দিয়ে আবারো বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

যদিও জাতীয় গ্রিডে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ হতে থাকে। পরবর্তীতে ৬ ঘণ্টার মেরামত শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বন্ধ হয়ে পড়া ইউনিটগুলো আবারো উৎপাদনে ফিরলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এএসএম সাজ্জাদুর রহমান জানান, সকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২ কেভি গ্রিড লাইনের সুইচ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে এ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট তত্ক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে পড়ে। ক্রটি দেখা দেয়ার পর পরই স্থানীয় প্রকৌশলীরা মেরামত শুরু করে দেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার কারণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্তের আগ পর্যন্ত কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী এএসএম সাজ্জাদুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here