আলহাজ টেক্সটাইলের মামলার রায়ের সম্ভাবনা বুধবার

0
1192

আদালত প্রতিবেদক : অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে আলহাজ টেক্সটাইলের দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলার রায় আগামী বুধবার বা বৃহস্পতিবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাটি এখন হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় প্রদান তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের যৌথ বেঞ্চে এই মামলার রায় প্রদান করা হবে। আলহাজ টেক্সটাইল মিলস বনাম অগ্রণী ব্যাংকের মামলাটি কন্টেম্পট পিটিশনের নম্বর ১৫১/২০১৩।

আলহাজ টেক্সটাইলের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অগ্রণী ব্যাংককে কোম্পানিটির কয়েকটি সঞ্চয়ী হিসাবে রাখা অর্থের উপর দীর্ঘমেয়াদী আমানতের হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আদালতের ওই নির্দেশের পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোম্পানির পুরো পাওনা পরিশোধ করেনি। এ অভিযোগে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করে আলহাজ টেক্সটাইল।

এর আগে ২০১৫ সালের আগস্টে ওই মামলার শুনানীতে আদালত কোম্পানির একজন শেয়ারহোল্ডার মো. ইস্কেন্দার ভুঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীপক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

সূত্র অনুসারে, প্রায় দুই যুগ আগে জটিলতার সূত্রপাত। ১৯৮৯ সালে আলহাজ টেক্সটাইল অগ্রণী ব্যাংক থেকে একটি ঋণ নেয়। ওই ঋণের অর্থ ৯টি আলাদা হিসাবে ওই ব্যাংকেই জমা রাখা হয়; যার মোট পরিমাণ ২ কোটি ৯ লাখ টাকা। এসব হিসাবে জমাকৃত অর্থের বিপরীতে সুদ পাওয়ার কথা কোম্পানিটির। কিন্তু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশে ওই অর্থ সান্ড্রি হিসাবে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ (ব্যাংক)। পরে ২০০৫ সালে ওই অর্থ এফডিআর হিসেবে দেখানো হয়। এসব জটিলতা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।

২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আলহাজ টেক্সটাইলের করা রিট আবেদনের রায় দেয়। এতে অগ্রণী ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয় কোম্পানির এফডিআরে প্রাপ্য সুদ পরিশোধ করার।

অগ্রণী ব্যাংক ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে আপিল করে। আপিলে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসাইন, বিচারপতি মোহাম্মদ ঈমান আলী এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকের বেঞ্চ দীর্ঘমেয়াদী আমানত (FDR) এর সুদ হারে কোম্পানিটিকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আলহাজ টেক্সটাইল মিলস ১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩০.৩৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৮.৬৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৬১ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here