আর্থিক সংকটে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স

0
609

সিনিয়র রিপোর্টার : আর্থিক সংকটে পড়েছে জীবন বীমা খাতের কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ২০১৬ সালে ব্যবসা, লাইফ ফান্ড, সারপ্লাস, বিনিয়োগ, আয়, পলিসি নবায়ন প্রতিটি সূচকেই পিছিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি।

নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ সালে কোম্পানিটির ব্যবসা, সারপ্লাস ও লাইফ ফান্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগ থেকে আয়ও কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ পলিসির সংখ্যা। আর্থিক চাপ বাড়লেও ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখাতে পারেনি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। আগের বছরের তুলনায় কমলেও ২০১৬ সালে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি খরচ করেছে এর ম্যানেজমেন্ট।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্র জানায়, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটির অ্যাকচুরিয়াল ভ্যালুয়েশনের বেসিস অনুমোদন দেয়নি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ফলে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে লভ্যাংশ দিতে পারেনি তারা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ৬ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।

সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষও। কোম্পানির আগের অদক্ষ ও দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন তারা। তবে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ব্যবসায় এর সুফল পাওয়া যাবে বলেও দাবি তাদের।

সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান রুবিনা হামিদ বলেন, আমরা মনে করেছি কোম্পানিটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন দরকার। এজন্য নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরগুলোয় আমরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠব।

আইডিআরএতে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় করে। ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে গত বছর প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম কমেছে ২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। একইভাবে কোম্পানিটির নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ও কমেছে। ২০১৬ সালে কোম্পানিটি নবায়ন প্রিমিয়াম আয় করে ৬৫ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের বছরে যা ছিল ৮২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাত্ আলোচ্য বছরে নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ কমেছে ১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগ থেকে আয়ও কমেছে। আলোচ্য বছরে বিনিয়োগ থেকে আয় এসেছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালে ছিল ২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ওই বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ২০১৬-তে তা ৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা কমে দাঁড়ায় ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের রেভিনিউ সারপ্লাস দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ৯ লাখ টাকা, আগের বছরে যার পরিমাণ ছিল ৭১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৫ সালে লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ছিল ৩৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা কমে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৩৪১ কোটি ১১ লাখ টাকা।

২০১৬ সালেই সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের সর্বোচ্চসংখ্যক পলিসি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, ৩৫ হাজার ৫৮৬টি। এর আগে ২০১৫ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয় ২৯ হাজার ৯৭০টি পলিসি। তবে আগের বছর ২০১৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয় ১৩ হাজার ১৭৫টি পলিসি।

ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সব সূচকেই ২০১৫ সালের তুলনায় পিছিয়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। তবে ২০১৬ সালেও কোম্পানিটি আইন নির্ধারিত সীমার বাইরে ব্যবস্থাপনা বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের বছরে তা ছিল ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা।

এদিকে ২০১৬ সালে কমার ধারায় থাকলেও চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল ৪ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। যদিও আগের বছর একই সময়ে তা ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বেড়েছিল।

২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ কোটি ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে বাকি ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here