আরো ১০ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদন করবে হাইডেলবার্গ

0
501

স্টাফ রিপোর্টার : উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বিদ্যমান প্লান্টের সঙ্গে একটি নতুন গ্রিডিং মিল স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দেড় গুণে উন্নীত করবে কোম্পানিটি। নতুন কারখানা স্থাপনে প্রায় ৯৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া তথ্যে কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন গ্রিডিং মিল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ। কাঁচপুর প্লাটে নতুন গ্রিডিং মিলটি স্থাপিত হলে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন করে ৪ লাখ ৭২ হাজার টন পিসিসি সিমেন্ট যোগ হবে। বিদ্যমান কারখানায় বছরে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টন সিমেন্ট উৎপাদন করতে পারছে কোম্পানিটি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের ব্যয় হবে ৯২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ অর্থায়ন কোম্পানির নিজস্ব ফান্ড থেকে নির্বাহ করা হবে বলে জানিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। তবে নতুন প্রকল্পের সময়সীমা জানায়নি কোম্পানিটি।

জানতে চাইলে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের কোম্পানি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিমেন্টের বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণের জন্যই নতুন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দেড় গুণে উন্নীত হবে। শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনের বিষয়ে পরে জানানো হবে।

এদিকে মঙ্গলবার চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬১ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে গেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা।

হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) হাইডেলবার্গ সিমেন্টের ইপিএস কমেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৪ টাকা ৪৩ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২৩ টাকা ৭৬ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৮৩ টাকা ৩৯ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, গেল হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৫০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ১৪০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ হিসাব বছরে ইপিএস হয়েছে ২৬ টাকা ৬৯ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২৪ টাকা ৮১ পয়সা।

ডিএসইতে মঙ্গলবার ২ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে সর্বশেষ ৪০৯ টাকায় হাতবদল হয় হাইডেলবার্গের শেয়ার। সমাপনী দর ছিল ৪০৭ টাকা, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪২০ টাকা ৪০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৪০০ টাকা থেকে ৫৭৪ টাকার মধ্যে ওঠনামা করে।

১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ৫০২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৬০ দশমিক ৬৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৬ দশমিক ৭৮, বিদেশী ১ দশমিক ৪৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here