আমেরিকার পুঁজিবাজার নিম্নমুখী

0
448
 ডেস্ক রিপোর্ট : আমেরিকার শেয়ারগুলোর দর তলিয়ে গেছে। ফলে ডাউ জোনস ইন্ডাষ্ট্রিয়াল এভারেজ বিগত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে গিয়ে ঠেকেছে। তেলের দাম কমেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ধীর গতি সত্বেও চিনের শিল্পান্নোয়নের সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় এমন হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিস্টরা।শুক্রবার দিনশেষে স্টান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরসের মেটেরিয়াল শেয়ারগুলোর দাম ২.৯ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে জ্বালানী খাতের শেয়ারগুলোর দর কমেছে ২.২ শতাংশ। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস করপোরেশন, ডুপন্ট করপোরেশন এবং এক্সন মবিল করপোরেশনের দর কমেছে ২.৯ শতাংশ।

এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকটি শুক্রবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল চারটা পর্যন্ত ১.৬ শতাংশ বা ৩৩ পয়েন্ট কমে ২০০২.৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সপ্তাহজুড়ে এ সূচকটি কমেছে ৩.৫ শতাংশ। ডাউজোনস ১.৭৯ শতাংশ বা ৩১৫.১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৭২৮০.৮৩ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে ডাইজোনস কমেছে ৩.৮ শতাংশ। যা বিগত ২০১১ সালের পর এ সূচকের সবচেয়ে বড় পতন।

অবশ্যই তেল ইস্যুতে দর পতন হচ্ছে। রেনডি ওয়ারেন যিনি ১০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা করেন তার বিশ্লেষণে এটি। তিনি বলেন, প্রথমত: তেলের অতি সরবরাহের কারণে এটা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব অর্থনীতি ধীর গতিতে চলছে ভয়ের এটাও একটা কারণ। এসব কারণে ইতিবাচক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। এ দিকে, আসন্ন ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কম থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ। এর ফলে আবারো তেলের দাম কমেছে।

আইইএ ২৯টি দেশকে পরামর্শ দিয়েছে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয় রাখতে যাতে তেলের দাম দ্রুত কমে না যায়। সংস্থাটির মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ সংকুচিত করে তেলের দাম কমার আশা করা অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে।

শুক্রবার হালকা অপরোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রতি ব্যারেল ৬৩ ডলারের নিচে নেমে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দর কমেছে ১.৮৩ ডলার থেকে ১.৮৫ ডলার পর্যন্ত। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ইউএস ক্রুডের দাম ৫৭.৮১ ডলার থেকে ২.১৪ ডলার কমেছে। যা ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন।

আইইএ বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদার ফর্দ পরের বছরের জন্য প্রতিদিন ৯ লাখ ব্যারেলের পরিবর্তে কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নামিয়ে এনেছে। রাশিয়া ও অন্য তেল রফতানিকারক দেশগুলোতে তেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। জুন থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ইউএস শেল অয়েলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইইএ।

শুক্রবার দিনশেষে নাসডাক ১.১৬ শতাংশ বা ৫৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪৬৫৩.৬০ পয়েন্টে, ডিজে টোটাল মার্কেট ১.৫৬ শতাংশ বা ৩৩ পয়েন্ট কমে ২০৭৯১.৩৯ পয়েন্টে, রুসেল ২০০০ সূচক ১.২৪ শতাংশ বা ১৪ পয়েন্ট কমে ১১৫২.৪৫ পয়েন্টে এবং গ্লোবাল ডাউ ১.৪২ শতাংশ বা ৩৫.৩৩ পয়েন্ট কমে ২৪৫৯.৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। খবর : ব্লমবার্গ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here