আমান কটন ও অন্যান্য

0
1350

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেডের শেয়ারদর কমেছে ২০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ফলে কোম্পানিটি চলে আসে দরপতনের সাপ্তাহিক তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ৬ আগস্ট শুরু হয় আমান কটন শেয়ারের লেনদেন। লেনদেনের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারটির সর্বশেষ দর ছিল ৭৫ টাকা ৭০ পয়সা, যা কাট অফ প্রাইসের চেয়ে ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা বা ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় দিনে দর সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা স্পর্শ করে। এরপর থেকে শেয়ারটির দর কমছে।

ডিএসইতে বৃহস্পতিবার আমান কটন শেয়ারের সর্বশেষ দর ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ বা ৫ টাকা ৩০ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৫৭ টাকা ৩০ পয়সায়। দিনভর দর ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৬৩ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সমাপনী দর ছিল ৫৭ টাকা, যা এর আগের কার্যদিবসে ছিল ৬২ টাকা ৬০ পয়সা। এদিন ৩ হাজার ৬৩৯ বারে কোম্পানিটির মোট ১৬ লাখ ১৪ হাজার ২২৩টি শেয়ার লেনদেন হয়।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনক্রমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে কোম্পানিটি।

গত ২৬ জুলাই সব প্রাথমিক শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা করেছে কোম্পানিটি। গত ৪ জুলাই রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কোম্পানির আইপিও লটারি অনুষ্ঠিত হয়। ৩ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির আইপিওর চাঁদা জমা দেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (ইআই) বিডিংয়ের মাধ্যমে ৪০ টাকা কাট অফ প্রাইস নির্ধারিত হয় আমান কটনের। আইপিওর বুকবিল্ডিং পদ্ধতির নিয়ম অনুসারে, যে দরে ইআইদের কাছে শেয়ার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়, তাই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাট অফ প্রাইস। এরপর ১০ শতাংশ ডিসকাউন্টে লটারির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়।

এদিকে সম্প্রতি স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ আমান কটনের হালনাগাদ অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আইপিও-পরবর্তী শেয়ারসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়ায় ১ টাকা ৯৩ পয়সা। পুনর্মূল্যায়নজনিত উদ্বৃত্তসহ হিসাব করলে ৩১ মার্চ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৪০ টাকা ৯০ পয়সা।

তথ্য অনুসারে, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে কারখানার নতুন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ ব্যয় করবে আমান কটন। যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের জন্য কোম্পানিটি ব্যয় করবে ৪৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, ঋণ শোধে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা, চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হবে ১০ কোটি টাকা এবং বাকি সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে।

কোম্পানির আইপিও প্রসপেক্টাস থেকে জানা যায়, আমান কটন মূলত সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কটন, পলিয়েস্টার, সিল্কসহ অন্যান্য সুতা উৎপাদন করে তারা। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত আমান কটন ফাইব্রাসের কারখানায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয় ২০০৬ সালে। পরের বছর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় কোম্পানিটি। কারখানার বর্তমান উৎপাদনক্ষমতা ৬ হাজার ১৯৫ টন।

আমান কটনের ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here