সিনিয়র রিপোর্টার : আমরা নেটওয়ার্কসের আইপিওতে শেয়ারদর (কাট-অব-প্রাইস) ৩৯ টাকা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ক্রয়ে ‘দরপ্রস্তাব করতে পারায় কারসাজি’ অভিযোগে শেয়ার ক্রয়ের আইনটি সংস্কার করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তবে কাট-অব-প্রাইসে কারসাজি নয় বরং কোম্পানিগুলোর সর্বোচ্চ দরদাতাকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেয়ারদর নির্ধারণ করা হয়েছে, বলেন আমরা নেটওয়ার্কসের ইস্যু ম্যানেজার লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের সিইও খোন্দকার কায়েস হাসান।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইপিওর বুক বিল্ডিং আইন ফের সংশোধনের পরিকল্পনা করছে বাংলদেশ সিকিউরিটিজ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রণ কমিশন নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দরপ্রস্তাবের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন হারকে গুরত্ত্ব দিয়ে নতুন আইন করতে যাচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শেয়ারের দর নির্ধারণে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ২ শতাংশ শেয়ার ক্রয়ের জন্য দরপ্রস্তাব করতে পারবে। আইপিওর আকার বড় হলে এই হার ১ শতাংশও করা হতে পারে।

খোন্দকার কায়েস হাসান মঙ্গলবার সকালে স্টক বাংলাদেশকে বলেন, আমরা টেকনোলজির শেয়ারদর ৩৯ টাকায় দর নির্ধারণ করা হয়েছে। কাট-অব-প্রাইস বেশি নয়, বুক বিল্ডিং রুল অনুযায়ী করা হয়েছে। শেষ দিনে ইনভেস্টররা অনেক বেশি বিডিং করেছিল। তারপরেও শেষে এটা ৩৯ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

তবে যোগসাজশ করে শেয়ারদর বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন কায়েস হাসান।

বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার কিনতে দরপ্রস্তাব করতে পারে। সর্বশেষ আমরা নেটওয়ার্কসের শেয়ারদর ৩৯ টাকা নির্ধারণে পারস্পরিক যোগসাজশের অভিযোগ আসার পর আইনটি সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

বুক বিল্ডিং আইনের সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সংশোধনীতে আইপিওতে প্রিমিয়াম চাইলেই বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। দর নির্ধারণের সর্বনিম্ন সীমা আরোপ করা হলেও সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়নি।

বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার সুযোগে পারস্পরিক যোগসাজশে ১০টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মাধ্যমেই চূড়ান্ত দর নির্ধারণ করা সম্ভব বলে মনে করে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই ও এর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ। বেশি সংখ্যক প্রাতিষ্ঠানিক দরপ্রস্তাবের মাধ্যমেই যাতে চূড়ান্ত দর নির্ধারিত হয়, সেভাবে বিদ্যমান বুক বিল্ডিং আইনের সংশোধনের সুপারিশ করেছে তারা।

বিএসইসির কর্মকর্তারা জানান, ডিএসইর প্রস্তাব পাওয়ার আগেই কমিশন আইন সংশোধনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সংখ্যা এবং তাদের মূলধন পর্যাপ্ততার ভিত্তিতে কোটা পুনর্নির্ধারণ করার বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে ১০ ক্যাটাগরির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য সমান ১০ শতাংশ করে কোটা বরাদ্দ রয়েছে।

ডিএসইর কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বুক বিল্ডিং আইন অনুযায়ী কোন কোম্পানি কত টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে, তা ঘোষণা করে। এ হিসাবেই প্রাতিষ্ঠানিক কোটা টাকার অঙ্কে নির্ধারিত হয়। আবার এ আইন অনুযায়ী দরপ্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দরপ্রস্তাব করতে হয় শেয়ারসংখ্যার ওপর, যা সাংঘর্ষিক। এরও সংশোধন দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here