ইন্ট্যারন্যাশনাল ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। গত বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সভার কার্যবিবরণী প্রকাশের পর পরই বাড়তির দিকে চলে যায় মূল্যবান ধাতুটির দাম। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এঙ্চেঞ্জের (নিমেঙ্) কোমেঙ্ ডিভিশনে বুধবার স্বর্ণের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। এদিন ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ ডলারে। সামপ্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৫৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার ফেডের সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। এ সভায় যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়ানো হবে কি-না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় উপস্থিত অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী, তাই সুদহার বাড়ানো যায়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সুদহার বাড়ানো হলে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফেডের এমন কার্যবিবরণী প্রকাশের পর পরই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। এর আগে চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছিল।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে আরজেও ফিউচার্সের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক বব হ্যাবরকর্ন বলেন, ‘ডিসেম্বরে সুদহার বাড়ানো হতে পারে এমন সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।’

সুদহার বাড়ানো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ১৫ দিনের ব্যবধানে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম প্রায় ৭০ ডলার কমে যায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিমেঙ্রে কোমেঙ্ ডিভিশনে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয় ১ হাজার ৩২৩ দশমিক ৭০ ডলারে, যা বর্তমানে ১ হাজার ২৫৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ১০ ডলারে। এ হিসাবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে পণ্যটির দাম কমেছে আউন্সে প্রায় ৮৭ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে ডলারের মান বাড়ছে। ডিসেম্বরে সুদহার বাড়ানো হলে ডলারের মান আরও বাড়তে পারে। এ কারণে অন্যান্য মুদ্রার চেয়ে ডলার দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ডলারের অবস্থান শক্ত হলে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিক্রয়প্রবণতা বেড়ে যায়। এ কারণে অন্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে সহজলভ্য হয়ে ওঠে ধাতুটি।’ বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কারণেই পণ্যটির দরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।