থমকে আছে ১৮৫৬ কোটি ডলারের প্রকল্প

0
319
স্টাফ রিপোর্টার : উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিশ্রুত বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে পাইপলাইনে। এ অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ডলার। এর আগে পাইপলাইনে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে থাকেনি। এ অবস্থায় অর্থছাড়ে গতি আনতে দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে সরকার। আগামী ৩ নভেম্বর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় পরামর্শক গ্রুপের (এলসিজি) এ বৈঠকে কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব আবুল কালাম আজাদ ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি নীল ওয়াকার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক প্রতিশ্রুতি আসছে। কিন্তু দাতা সংস্থাগুলোর ক্রয়-সংক্রান্ত নীতিমালায় ভিন্নতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত অর্থের পুরোটা ব্যয় করা সম্ভব হয় না। একই সঙ্গে উভয়পক্ষের প্রকল্প অনুমোদনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আছে। বিশেষ করে দাতা সংস্থাগুলোর অর্থছাড়ে অনেক সময় লেগে যায়।
দাতা সংস্থাগুলো দাবি করছে, প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরিতে ধীরগতি, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্প অনুমোদনে বেশি সময় লাগায় অর্থছাড় হচ্ছে না। অন্যদিকে দাতাদের বিভিন্ন শর্তের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বৈদেশিক সহায়তায় নেয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাতারা প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগে বিলম্ব করায় অর্থছাড় হয় না।
ইআরডির যুগ্ম সচিব মনোয়ার আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ক্রয়-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অর্থছাড়ে গতি আসছে না। বিষয়টি নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। এর পরও জটিলতা আছে। আগামী এলসিজি বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা-সংক্রান্ত বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। দাতাদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দফা এলসিজি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এর ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে।
৩ নভেম্বরের বৈঠকে বাংলাদেশে কর্মরত ৪৩ দাতা সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ের প্রধানদের ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানের সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কাউন্সিলর ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফর সাউথ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়ান এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, কানাডা সরকারের সহযোগিতা সংস্থা-সিডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, যুক্তরাজ্যের সংযোগিতা সংস্থা-ডিএফআইডি, জাতিসংঘ, ডেনমার্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড সরকারের প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহকারি মিশন পরিচালকসহ অন্যান্য সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে।
ইআরডির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে পাইপলাইনে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৪৩ কোটি ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছর শেষে ছিল ১ হাজার ৪১৫ কোটি ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত ছিল ৯৪২ কোটি ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here