আজকের বাজার পতনের কারন

3
10156

মেহেদী আরাফাত : টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী সোমবার ঢাকা শেয়ার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়- ডিএসইএক্স ইনডেক্স লেনদেনের শুরু থেকেই হ্রাস পেতে থাকে। দিনের শুরুতে কিছুটা ক্রয়চাপ থাকলেও কিছু সময় পর বিক্রয় চাপের ফলে সূচক বেশ নিম্নমুখী হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিক্রয় চাপ আরও প্রবল হতে থাকে এবং দিনশেষে সূচক ৬৫.০২ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। সূচকের এ দরপতনের ফলে আজকের ক্যান্ডেলস্টিক একটি বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিক ছিল। এই বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিক বাজারের বিক্রয় চাপ প্রকাশ করছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলির ইপিএস আশা শুরু হয়েছে। টেক্সটাইল খাতের একটি কম্পানির ভাল ইপিএস আশার পর টেক্সটাইল খাতের প্রায় সব কম্পানির দাম বাড়ে। অন্যদিকে ইউনাইটেড পাওয়ারের পিছনে পিছনে পাওয়ার সেক্টরের অন্য সব কম্পানির দাম বাড়ে। সবকিছুর পরও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইপিএস নিয়ে আতঙ্ক কাজ করছিল। একটা চক্র হাতের শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দে ইপিএস খারাপ আসবে। গুজব আর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবনতা এক হয়ে আজকের বাজারের পতন হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে ডিএসই এক্স ইনডেক্স এর পরবর্তী সাপোর্ট ৪২৭৬ পয়েন্টে এবং রেজিটেন্স ৪৩৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আজ বাজারে এম.এফ.আই এর মান ছিল ৩০.৫৪ এবং আল্টিমেট অক্সিলেটরের মান ছিল ৩৪.৯০। এম.এফ.আই কিছুটা নিম্নমুখী অবস্থান করছে এবং আল্টিমেট অক্সিলেটর কিছুটা নিম্নমুখী অবস্থান করছে।Screenshot_1

ডিএসইতে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯২ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়, যার মূল্য ছিল ৪৬০.২৬ কোটি টাকা। ডিএসইতে লেনদেন হ্রাস পেয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। ঢাকা শেয়ারবাজারে ৩১১ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৭ টির, কমেছে ২৩৬ টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

পরিশোধিত মূলধনের দিক থেকে দেখা যায়, বাজারে চাহিদা কম ছিল ০-২০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যা আগেরদিনের তুলনায় ২৯.৪০% কমেছে। অন্যদিকে হ্রাস পেয়েছে ১০০-৩০০ এবং ২০-৫০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের যা আগেরদিনের তুলনায় ২৬.৭% এবং ২১.৩২% কম। অন্যদিকে ৫০-১০০ এবং ৩০০ কোটি টাকার উপরে পরিশোধিত মুলধনী প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমান গতকালের তুলনায় ৬.৩৭% এবং ১৪.১৪% কমেছে।

পিই রেশিও ৪০ এর উপরে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৬.১৪% কমেছে। অন্যদিকে পিই রেশিও ০-২০ এবং ২০-৪০ এর মধ্যে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ১৮.৮৮% এবং ১৪.৩৭% কমেছে।

ক্যাটাগরির দিক থেকে পিছিয়ে ছিল ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন যা আগেরদিনের তুলনায় ৩১.২৪% কম ছিল। কমেছে ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন যা আগেরদিনের তুলনায় ২২.৭% এবং ১১.৯৫% কম ছিল।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here