আগামী বাজেটের আকার ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী

0
285

স্টাফ রিপোর্টার : বিনা মাসুলে ব্যবসা করতে চাওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের লোভ অত্যন্ত বেশি। রবিবার সচিবালয়ে বিসিএস কাস্টমস, ভ্যাট ও ট্যাকসেশন এসোসিয়েশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রীর এমন মন্তব্য আসে।

২০১২ সালের ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইন কার্যকরের সময় আরো দুই বছর পিছিয়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি ভ্যাট বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে এফবিসিসিআইয়ের কাছে। কিন্তু তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা যে খুশি নন, সে খবর ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। অন্য এক সভায় তিনি বলেন, আগামীতে বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬০ থেকে ৪ লাখ ৭৫ কোটি টাকা হবে।

সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দে ডন্ট ওয়ান্ট টু পে, নিজের পকেট  থেকে পয়সা পৃথিবীর কেউ দিতে চায় না। আমাদের দেশ একটু বেশি, লোভটা অত্যন্ত বেশি। সবাই বিনা মাসুলে ব্যবসা করতে চায়, তারা কোনো ট্যাক্স দিতে চায় না।

সব পণ্য বিক্রির ওপর অভিন্ন হারে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নিতে ২০১২ সালে আইন করে সরকার। ২০১৬ সালের ১ জুলাই তা কার্যকরের পরিকল্পনা থাকলেও ব্যবসায়ীদের প্রবল বিরোধিতায় তা পিছিয়ে গত বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু নির্বাচনের দেড় বছর আগে ভ্যাটকে কেন্দ্র করে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কায় গত বাজেটের আগে সরকারের মধ্যেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলে।

পরে জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাট আইন কার্যকরের সময় আরো দুই বছর পেছাতে বললে তাতে মাথা নোয়ান অর্থমন্ত্রী। ফলে ভ্যাট আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক হারের ভ্যাট নির্ধারণের ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বলেই এখন তার উপলব্ধি হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে রবিবার তিনি বলেন, ‘কিছু হাই রেইট থাকবে, কিছু  লো রেইট থাকতে হবে। অ্যাট লিস্ট দেয়ার শুড বি টু রেইটস।’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ  রেজিস্টার (ইসিআর) চালু করলে ২ শতাংশ ছাড় দেয়ার কথাও বলেন তিনি।

বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেট ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। আর এখন রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ। এটা সন্তোষজনক। গত ৮ মাসে এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

এ সময় ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো ভ্যাট ট্যাক্স দিতে চায় না উল্লেখ করে তাদের ‘লোভী’ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। তবে ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা ইসিআর (ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার) ব্যবহার করবেন তারা ২ শতাংশ রেয়াত পাবেন।

বৈঠকে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বিসিএস ট্যাক্স, ভ্যাট ও কাস্টমস এসোসিয়েশন সদস্যরা। এসব সমস্যা দূর করতে জনবল বাড়ানোর সুপারিশ করেন তারা। অর্থমন্ত্রী তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

এরপর বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের নিয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী বছরে বাজেটে বেশি চ্যালেঞ্জ নেয়া ঠিক হবে না। আগামী বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে অধিক গুরুত্ব দেয়া হবে।

বাজেটের আকারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ভালো। এটা বাজেটের আকার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। আগামীতে বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬০ থেকে ৪ লাখ ৭৫ কোটি টাকা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here