আকরিক লোহা

ডেস্ক রিপোর্ট : বাঁধ ধসের পর থেকে ব্রাজিলে খনি থেকে আকরিক লোহা উৎপাদন নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে ভালি এসএ। এতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় পণ্যটির দাম তরতরিয়ে বাড়ছে। বিশ্বের শীর্ষ আকরিক লোহা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে না পারলে এ সংকট আরো তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, অন্ততপক্ষে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও তীব্র সরবরাহ সংকটে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। খবর ব্লুমবার্গ, এএফপি ও এবিসি নিউজ।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোভিত্তিক ভালি এসএ বিশ্বের শীর্ষ আকরিক লোহা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি টন আকরিক লোহা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত ২৫ জানুয়ারি ব্রাজিলের মাইনাস গেরাইস রাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন করেগো দো ফেইয়াও খনি কমপ্লেক্সে বাঁধ ধসে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে।

এছাড়া আরো ২৬০ জন নিখোঁজ আছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের কেউ বেঁচে নেই। এ ঘটনার জের ধরে দেশটির আদালত মাইনাস গেরাইস রাজ্যে ভালির বৃহত্তম খনি ব্রুকোতো থেকে উৎপাদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। এ খনির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি টন। গত বুধবার জানা গেছে, মাইনাস গেরাইস রাজ্য সরকার ভালির লারেনজেইরাস ড্যাম ও জঙ্গাদা খনি পরিচালনার লাইসেন্স বাতিল করেছে।

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্যবাজার বিশেষজ্ঞ বিবেক ধর বলেন, বাঁধ দুর্ঘটনার কারণে করেগো দো ফেইয়াও খনি কমপ্লেক্সে ভালির ৪ কোটি টন পণ্য সরবরাহ আটকা পড়েছে। এ কারণে বাজারে স্থায়ীভাবে দামের উত্থান দেখা যাচ্ছে। এখন বার্ষিক ৩ কোটি টনের সরবরাহ ব্যাহত হলে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০১৪ সালের পর থেকে এটাই হবে আকরিক লোহার দামের সর্বোচ্চ অবস্থান।

এএনজেডের বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল হাইনেস বলেন, বেশকিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবকের কারণে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং এতে দাম বাড়বে।

অবশ্য ভালির বাঁধ ধসের আগে থেকেই আকরিক লোহার বাজার চাঙ্গা আছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় গত নভেম্বরের পর থেকে আকরিক লোহার দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে স্পট মার্কেটে আকরিক লোহা টনপ্রতি ৮৭ ডলারের আশপাশে লেনদেন হচ্ছে, যা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাঁধ ধসের পর থেকে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১২ ডলার বেড়েছে।

তবে দামের এ ঊর্ধ্বমুখিতা স্থায়ী না-ও হতে পারে বলে মনে করছেন বিবেক ধর। তিনি বলেন, দামের এ ঊর্ধ্বমুখিতা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ভালি অন্য খনিতে উৎপাদন বাড়িয়ে সরবরাহ ঘাটতি পুষিয়ে আনবে। এর আগেও এমনটি ঘটেছিল।

ভালির উৎপাদন পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি শীর্ষ ভোক্তা চীনের শ্লথ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দামের উত্থানের পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে, দেশটিতে উৎপাদন খাত সংকুচিত হয়ে আসছে এবং সম্পত্তির বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করতে শুরু করেছে, যা কাঁচামালের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।

বিবেক ধর বলেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য চীনা ইস্পাত উৎপাদকদের আকরিক লোহার জন্য বেশি দাম পরিশোধ করার ক্ষমতা নেই। আমরা মনে করি, আগামী বছরের শুরুর দিকে ভালি উৎপাদন পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারবে। এতে দাম দুর্ঘটনা পূর্ববর্তী অবস্থান নেমে আসবে।

তবে দামের ঊর্ধ্বমুখিতার স্থায়িত্ব নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ড্যানিয়েল হাইনেস। তিনি বলেন, গত অক্টোবরের পর থেকে চীন অবকাঠামো উন্নয়নে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি ইউয়ান (১৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে। আমরা আশা করছি ২০১৯ সালের প্রথম দিকেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় উৎপাদন কমে আসা এবং ভালো মানের পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় ২০১৯ সালে চীনের আকরিক লোহা আমদানি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ভারতে ইস্পাতের রফতানি আমদানিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আকরিক লোহার দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। পাঁচ বছর আগেও ভারতের আকরিক লোহার রফতানি আমদানির চেয়ে ১০ লাখ টন বেশি ছিল। তবে এর বেশির ভাগই ছিল নিম্নমানের। চীনে চাহিদা এবং ভারতে আমদানি বৃদ্ধির কারণে আমরা মনে করছি চলতি বছর আকরিক লোহার বাজারে এক লাখ টনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here