আইসিবি পেলো পুণঃঅর্থায়নের ৩০০ কোটি টাকা

0
935
স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।সোমবার বিকেলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের(আইসিবি) এ সংক্রান্ত হিসাবে এ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান।

মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা (বাংলাদেশ ব্যাংক) সরকারের পক্ষে আইসিবির বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান শাখায় খোলা অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছি। এখন আইসিবি নিয়ম অনুযায়ী এই তহবিল থেকে সংশ্লিষ্টদের ঋণে দেবে।’

এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইএসি) ও আইসিবি।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইসিবি সমন্বিতভাবে তহবিলটির তদারকি করবে।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৯ মে তিন কিস্তিতে ৯০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। এই তহবিল পরিচালনার জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইসিবি যৌথভাবে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা এ সুবিধা পাবেন। এ সুবিধার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের নেয়া ঋণের যে সুদ হয়েছে তার ৫০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।

এছাড়া বাকি ৫০ শতাংশ সুদ ও আসল একটি সুদবিহীন ব্লক অ্যাকাউন্টে রেখে তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করা হবে। অর্থাৎ নতুন করে ঋণ দেয়া হবে। যার সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। পুনঃতফসিলকৃত এই ঋণের অর্থ বিনিয়োগকারীকে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে তিন বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর ফলে ওইসব বিনিয়োগকারীদের হিসাবগুলো পুনরায় পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে পারবে।

ঋণ পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংক অথবা স্টক ব্রোকার দাতা-গ্রাহক সম্পর্কের আলোকে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করবে।

এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকারের কাছে আবেদন করতে হবে। যারা ইতিমধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকারদের থেকে সুদ মওকুফ সুবিধা নিয়েছেন তারা এই সুবিধা পাবেন না।

তবে কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক ব্রোকার তাদের কোনো গ্রাহককে সুদ মওকুফ সুবিধা দিতে এবং ঋণ পুনঃতফসিল করে তার দালিলিক প্রমাণ দিয়ে ওই গ্রাহকের জন্য আইসিবি থেকে ঋণ নিতে পারবে।

এসব আবেদন আইসিবির কাছে উপস্থাপন করবে মার্চেন্ট ব্যাংক অথবা স্টক ব্রোকার। আইসিবির ঋণ মঞ্জুরি কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে ঋণ মঞ্জুর করবে।

উল্লেখ্য, তহবিলটির মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ঋণ বিতরণের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে প্রতি তিন মাস পরপর প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে আইসিবিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here