সিনিয়র রিপোর্টার : রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ -এর (আইসিবি) সহযোগী ৯টি প্রতিষ্ঠান আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করায় শেয়ার প্রতি দর হাওয়ায় ভাসতে বা দর বাড়তে শুরু করেছে।

আইসিবির বিপুল পরিমাণ এমন বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছে আইসিবির সহযোগী ৯টি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ৮টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ১ টি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৫টি ফান্ড ৩ মাসে তাদের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট, আইসিবি এএমসিএল ইউনিট ফান্ড, বাংলাদেশ ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল পেনশন হোল্ডারস ইউনিট ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় ফান্ড, পঞ্চম আইসিবি ইউনিট ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল ইসলামিক ইউনিট ফান্ড ও আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড।

ডিএসইর ২৮ নভেম্বরের চিত্র প্রকাশ

লোকসানি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ১৫ নভেম্বর ছিল ৫.২০ টাকা শেয়ারপ্রতি দর। ২৮ নভেম্বর দিন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৮.১০ টাকায়। ব্যাংকটি ধারাবহিকভাবে লোকসান গুনছে। চলতি বছরের বছরের ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ২৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ০.৪২ টাকা।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে আইসিবির বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক। যাতে সহজেই শেয়ার দরে প্রভাব ফেলা যায়। তারপরেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইসিবি ও এর ফান্ডগুলোর সতর্ক হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আইসিবি এমএমসিএল কেনো একটি লোকসানি ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, সে বিষয়ে বিএসইসি ব্যাখ্যা চাইতে পারে।

এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব এইচ মজুমদার বলেন, আইসিবির ফান্ডগুলো আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকের মতো জাঙ্ক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে না। আইসিবিসহ তার ফান্ডগুলোর উচিত ভালো শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা। কিন্তু নিজেরাই যদি জাঙ্ক শেয়ারে জড়িয়ে পড়ে, তা দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্ত করা উচিত।

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্টের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) গোলাম রাব্বানি বলেন, শেয়ার প্রতি গড় ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়েছে। তবে এখন বিক্রয় করে দেওয়া হচ্ছে।

আইসিবি এএমসিএল ইউনিট ফান্ড : চলতি বছরের ৩০ জুন আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকে আইসিবি এএমসিএল ইউনিট ফান্ডের বিনিয়োগ ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। যা ৩ মাসের ব্যবধানে ৩০ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে বিনিয়োগ বেড়েছে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৫৫ শতাংশ।

ব্যাংকের ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬৭টি শেয়ার কিনেছে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা দিয়ে। যাতে শেয়ারপ্রতি গড় ৬.৩৪ টাকা লেগেছে।

বাংলাদেশ ফান্ড : ফান্ডটির ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। যা প্রতিটি ৬.০৭ টাকা গড়ে ১৯ লাখ ৮৩ হাজার শেয়ার কেনা হয়েছে। আর ৩০ জুনে ব্যাংকটিতে বিনিয়োগ ছিল ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এ হিসাবে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বা ৪৪ শতাংশ।

আইসিবি এএমসিএল পেনশন হোল্ডারস ইউনিট ফান্ড : ফান্ডটির ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। যার পরিমাণ ৩০ জুনে ছিল ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা। যা ৩ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা বা ১৫৮ শতাংশ। ফান্ডটি ৩ লাখ শেয়ার প্রতিটি ৬.১২ টাকা দরে কিনেছে।

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট : ফান্ডগুলোর পাশাপাশি আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠানটির নিজের হিসাবেও বিনিয়োগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠানটির ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগ রয়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার। যা প্রতিটি শেয়ার ৫.৭৬ টাকা করে ৪ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার কেনা হয়েছে।

আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি ফান্ড : ব্যাংকে ২২ লাখ ১১ হাজার টাকার বিনিয়োগ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। যা প্রতিটি ৬.৪৪ টাকা দরে ৭ লাখ শেয়ার কেনা হয়েছে।

আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় ফান্ড : ফান্ডটির ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকার বিনিয়োগ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে  ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। যা প্রতিটি শেয়ার ৬.৫৫ টাকা করে ৩ লাখ শেয়ার ক্রয়ে এই টাকা ব্যয় হয়েছে।

পঞ্চম আইসিবি ইউনিট ফান্ড : ফান্ডটিও ৩০ জুনে বিনিয়োগকৃত ৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা ৩০ সেপ্টেম্বর শূণ্যতে নেমে এসেছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিনিয়োগকৃত শেয়ার বিক্রয় করে শূণ্যতে আনা হয়েছে।

আইসিবি এএমসিএল ইসলামীক ইউনিট ফান্ড : চলতি বছরের ৩০ জুন ফান্ডটির বিনিয়োগ ছিল ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোটাই বিক্রয় করে দেওয়া হয়েছে।

আইসিবি এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট ফান্ড : ৩০ জুনে ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বিনিয়োগ বা শেয়ার থাকলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা বিক্রয় করে দেওয়া হয়েছে।

2 COMMENTS

  1. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তত্ববধানে একমাএ আইসিবি ইসলামী ব্যাংকই কয়েক বছর ধরে তলানীতে পড়ে ছিল। বিভিন্ন বিনিয়োগে এখন একটু উঠতে শুরু করেছে। এই সময়টাতে এ ব্যাংকের ওপর নেতিবাচক কোন তথ্য না দিলেই কি নয় ?

হাফিজুর রহমান শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here