আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক নিয়ে সংশয়

0
1285

সিনিয়র রিপোর্টার : ধারাবাহিক লোকসানের মুখে রয়েছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। ২০১৬ সালেও ২৭ কোটি টাকার লোকসান দিয়েছে ব্যাংকটি। এর আগে ২০১৫ সালে ব্যাংকটির নিট লোকসান ছিল ১৪ কোটি। এর আগে ২০১৪ সালে ২৮ কোটি, ২০১৩ সালে ৬৮ কোটি, ২০১২ সালে ১০৬ কোটি ও ২০১১ সালে ১৭৯ কোটি টাকা লোকসান করে।

এমন পরিস্থিতিতে বছর দুই আগে ব্যাংকটি বিক্রির গুঞ্জন ওঠে।

২০০৮ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সব সম্পত্তি ও দায় নিয়ে নতুন নামে যাত্রা করে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এর পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্যাংকটি।

পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সমস্যায় পড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ১৯৮৭ সালের ২০ মে আল-বারাকা ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড নামে কার্যক্রম শুরু করে। ২০০২ সালে মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার পর ওরিয়েন্টাল ব্যাংক লিমিটেড নামে কার্যক্রম চালায় ব্যাংকটি। মালিকানা হস্তান্তরের পর পরই ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে শুরু হয় নজিরবিহীন লুটপাট।

বাংলাদেশ ব্যাংক পরে এতে প্রশাসক বসায়। কিন্তু তারল্য সংকটের কারণে ওই সময় ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলতে পারছিলেন না আমানতকারীরা। সরকার এর পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সাড়ে ছয় বছর সময় দিয়ে ২০০৭ সালে একটি স্কিম বা কর্মসূচি চালু করে। এর পর ব্যাংকটির বেশির ভাগ শেয়ার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হলে তা কিনে নেয় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইসিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপ এজি।

২০১৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ৫২ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১৫ দশমিক ৮৪, প্রবাসী বাংলাদেশীদের দশমিক শূন্য ৬ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৪ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ব্যাংকটির শেয়ারধারণকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রায় তিন দশক ধরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যাংকটির শাখা মাত্র ২৯টি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে কোনো ব্যাংকের সুনাম নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে বেসিক ব্যাংককে নিয়ে সরকার একটু নাড়াচাড়া করছে। বিপর্যয়ে থাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ নেয়া দরকার।

তিনি বলেন, ব্যাংক একীভূত করে দেয়া বা ব্যাংকের এক্সিট পলিসি বিষয়ে আমাদের দেশে আইনি সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তারাই জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ফলে বিতরণকৃত ঋণ আর আদায় করা সম্ভব হয় না।

এছাড়া খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে নানা ধরনের আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়। এগুলো নিরসন করা না গেলে আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here