ব্যাপক মুনাফার পরও পতনের মুখে স্যামসাংয়ের শেয়ার

0
359
শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি স্যামসাংয়ের শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির তৈরি স্মার্টফোনের বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও সম্প্রতি এর শেয়ারের মূল্য প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই এর মূল কারণ। খবর বিবিসির। শুক্রবার স্যামসাং শেয়ারের এ দরপতন ঘটে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা বাড়ে ৪৭ শতাংশ। এ সময় কোম্পানিটি প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কোটি ওন (৫৫০ কোটি পাউন্ড) লাভ করে। তবে সব ধরনের বিশ্লেষণকে হার মানিয়ে শুক্রবার অপ্রত্যাশিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্যের পতন ঘটে। চলতি বছরে মোট দুই কোটি স্মার্টফোন বিক্রির কথা ছিল স্যামসাংয়ের।
গ্যালাক্সি এস৪ বাজারে আসার পর কোম্পানিটির বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেও মনে করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে উন্নত দেশগুলোয় গ্রাহকদের প্রায় ৫০ শতাংশ এ পণ্য কিনে ফেলায় এ খাত থেকে আয়ের পরিমাণ দিন দিন কমে আসছে। ফলে প্রধান ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলের মতো নিজেদের আয় না কমলেও শেয়ারের মূল্য কমতে শুরু করেছে তাদের। তবে গ্যালাক্সি এস৩-এর তুলনায় গ্যালাক্সি এস৪-এর বিক্রির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ও ফিচারফোন বিক্রির সিংহভাগই নিয়ন্ত্রণ করছে স্যামসাং। স্মার্টফোনের বিক্রির প্রায় অর্ধেকই তাদের নিয়ন্ত্রণে। ফিচারফোনের ক্ষেত্রে এ হার এক-চতুর্থাংশ। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর এ যন্ত্রের বিক্রির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের আয়ের ৯৫ শতাংশই নির্ভর করে এ যন্ত্রের বিক্রির ওপর। সম্প্রতি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের মোট আয়ের বিবরণ প্রকাশ করে স্যামসাং। এ সময় কোম্পানিটির মোট আয় আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়। বিপুল আয়ের পরও শেয়ারের দরপতনের বেশকিছু কারণ তুলে ধরেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে স্মার্টফোন বিক্রির আধিক্যের কারণে উন্নত দেশগুলোয় নতুন ক্রেতার সংখ্যা দিন দিনই কমছে। ক্রেতার সংখ্যা কমায় অপারেটররাও এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনগুলোর দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এতে স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও আয়ের পরিমাণ কমে আসছে নির্মাতা কোম্পানিগুলোর।
উন্নত দেশগুলোয় বাজার কমতে থাকায় উন্নয়নশীল দেশে বাজার বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্যে পণ্যের দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এতে আয়ের পরিমাণে পড়ছে কাটতি। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে চীন। দেশটিতে স্থানীয় কোম্পানি জেডটিই ও হুয়াউইয়ের সঙ্গে ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য ক্রমাগতভাবে স্মার্টফোনের দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছে স্যামসাং। সিউলের নোমুরা ফিন্যান্সিয়াল ইনভেস্টমেন্টের গবেষক সিডব্লিউ চুংয়ের তথ্যমতে, বিপণনে অধিক ব্যয়ের কারণে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় টেলিযোগাযোগ খাত আশার চেয়ে কম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসে বাজার গবেষক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের স্মার্টফোনের বিক্রির পূর্বাভাস কমিয়ে আনে। এর আগে চলতি বছর স্যামসাং প্রায় আট কোটি স্মার্টফোন বিক্রি করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাগুলো। বর্তমান এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ছয় কোটিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের যেমন আইফোন নিয়ে সমস্যায় রয়েছে, তেমনি স্যামসাংও গ্যালাক্সি নিয়ে সমস্যায় পড়তে শুরু করেছে। স্যামসাং তার আয়ের জন্য ক্রমশই স্মার্টফোন ও ট্যাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয়ের ৭৫ শতাংশই এসেছে সেলফোন, ট্যাবলেট পিসি ও ক্যামেরা থেকে। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির আয়ের ৬০ শতাংশই এ খাত থেকে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।