‘আইসিএবি’র আবদারে মেধাবীরা বঞ্চিত হবে’

0
1028

ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআরএ) নিয়ে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্টেন্ট অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) পেশাদার একাউন্টেন্টের  বিষয়ে আপত্তি করেছে। যদি আইসিএবির এই আবদার সরকার মেনে নেয় তাহলে মেধাবীরা যোগ্য পদে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবে।

তাই দেশের স্বার্থে মন্ত্রী পরিষদের অনুমোদন প্রাপ্ত আইনটিই দ্রুত পাশ করা দরকার বলে মনে করেন ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট একাউন্টেন্ট অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট এ এস এম শায়খুল ইসলাম।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, এফআরএ’র আইনের ১২ (১) (ক) ধারায় নির্বাহী পরিচালকদের নিয়োগ যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ব্যবসা প্রশাসন বা হিসাবরণ বা অর্থনীতি বা আইন বা ফাইন্যান্স বা ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা হিসাববিজ্ঞানে পেশাদার ডিগ্রীসহ অন্যূনত ১০ (দশ) বৎসরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছে।

শায়খুল ইসলাম বলেন, আইনটিতে ‘স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ‘পেশাদার একাউন্টেন্ট’ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কিন্তু হাস্যকরভাবে ‘স্বীকৃত  বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ব্যাপারে আইসিএবি’র কোন আপত্তি না থাকলেও পেশাদার একাউন্টেন্টের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির আপত্তি রয়েছে।

আইসিএবির এই আবদার মেনে নিলে নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের জন্য ‘আইসিএমএবি’-এর সদস্যগণ যোগ্যতা হারাবেন।  যাতে প্রতিযোগিতামূলক পরীার মাধ্যমে মেধাবীরা উক্ত পদে নিয়োগ প্রদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

তিনি বলেন, গত ৩০শে জুন ২০১৫ তারিখে আইসিএবি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে প্রস্তাবিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং’-এর সংজ্ঞায় ‘আইসিএমএবি’-এর সদস্যদেরকে অন্তর্ভূক্ত না করার জন্য মত প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রস্তাাবিত ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন দেশে একটি স্বাধীন ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) গঠনের উদ্দেশ্যে প্রণিত হয়েছে। বাস্তবতা বিবেচনায় এফআরসি’র গঠন, লোক বল নিয়োগ ও অন্যান্য সব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আইসিএবি অত্যন্ত সুকৌশলে এফআরসির উদ্দেশ্যে হিসেবে শুধু মাত্র নিরীাকে ফোকাস করেছে। কিন্তু এফআরএ’র উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী আরো ব্যাপক যা উক্ত আইনের ৭ও ৮ ধারায় বর্ণিত। যেখানে হিসাব পেশা হিসাবে সিএমএ সহসকল প্রফেশনাল একাউন্টেন্টসরা জড়িত। এ ছাড়া ৩৯নং ধারায় একাউন্টেন্সী পেশার প্রসার ও উন্নয়নের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এসব কাজের জন্য আইসিএমএবি ও আইসিএবি সমভাবে সংশ্লিষ্ট।

কোম্পানী আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী যেসব স্টেচুরী অডিট চার্টার্ড একাউন্টেন্টগণ দ্বারা সম্পাদন করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘আইসিএমএবিকে অন্তর্ভূক্ত করার কোন কথাই প্রস্তাবিত ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইনে বলা হয় নাই। একইভাবে, আইনের কোথাও আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য  ‘কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অডিট সম্পাদনের কথা বলা হয় নাই। তবে এ বিষয়ে আইসিএবি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি মিথ্যা ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করছে বলে জানান আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট। বিজ্ঞপ্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here