আইপিও স্থগিত ধারা এ্যাপোলো ইস্পাত থেকে সিমটেক্স

0
3582

শাহীনুর ইসলাম : কোম্পানির সকল প্রস্তুতি শেষে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে চাঁদাগ্রহণ শুরু হবে, এমন মুহূর্তে আইপিও স্থগিত করার ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। তবে স্থগিত আদেশ চেয়ে  রিট করা হলেও আদালত আইপিও স্থগিত করেননি। শুনানি শেষে চলমান প্রক্রিয়ায় ছিল আইপিও।

তথ্য গোপন বা কোম্পানির নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের চেয়ে অতিরিক্ত উল্লেখ করা বা নীতিভ্রষ্ট হলে শাস্তি স্বরুপ আইপিও স্থগিত করা হয়। যদিও এর আগে কোম্পানির প্রিমিয়াম বৃদ্ধির অভিযোগে আইপিও স্থগিত চেয়ে আদালতে রিট করা হয়। তবে আদালত শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেন

কোম্পানিগুলো হলো- এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

প্রিমিয়াম বাতিল ও আইপিও স্থগিত দাবিতে আদালতে রিট করা হয় রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (আরএসআরএম),  মতিন স্পিনিং কোম্পানিবিএসআরএম কোম্পানির বিরুদ্ধে। চলতি মাসে চাঁদা উত্তোলন সম্পন্নকারি কেডিএস এক্সেসরিজের প্রিমিয়াম বাতিলে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড দিয়ে স্থগিতের ধারা শুরু। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরামর্শে এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করে বিএসইসি। পরবর্তীতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং উচ্চ আদালতের আদেশক্রমে ২০১৩ সালের ২২ আগস্ট কমিশন সভায় সে স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হয়।

পর্যায় ক্রমে কোম্পানি আইপিও সম্পাদন শেষে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ২৬ জুন আইপিওর চাঁদাগ্রহণ স্থগিত করে বিএসইসি। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) আপত্তির কারণে সাধারণ বীমা কোম্পানিটির আইপিও স্থগিত করে কমিশন। আইডিআরএর অভিযোগ, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বাড়ালেও নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেয়নি। এছাড়া কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে উল্লেখ করা মূলধনের সঙ্গে আইপিও প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত মূলধনের মিল নেই। (বন্ধের কারণ)

যে কারণে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের আইপিওর চাঁদাগ্রহণ স্থগিত করে বিএসইসি। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে চলেছে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র সঙ্গে।

সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড : দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে অনুমোদন পাওয়া আরেকটি কোম্পানির আইপিও চাঁদাগ্রহণ স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আইপিও স্থগিতের বিষয়টি জানায় বিএসইসি।

২৪ আগস্ট, সোমবার থেকে সিমটেক্সের আইপিওর চাঁদাগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিএসইসির সিদ্ধান্তের ফলে প্রক্রিয়াটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়। স্থগিত সম্পর্কে বিএসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, কোম্পানিটির ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্টে তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাময়িকভাবে আইপিওর চাঁদাগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

যৌথভাবে এ কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল ও ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড। যোগাযোগ করা হলে এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আইপিও বিষয়ে বিএসইসি কয়েকটি বিষয়ে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তবে সে সম্পর্কে আমরা এখনো বিস্তারিত জানাতে পারিনি।

সিমটেক্সের আইপিও প্রসপেক্টাসে সংযুক্ত পরিচালন কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানির টার্নওভারের অর্থ পুরোটাই নগদে সংগ্রহ করা হয়েছে। একইভাবে সরবরাহকারী বকেয়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নগদ টাকায় পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে টার্নওভার ও উৎপাদন খরচের সব লেনদেনই নগদ টাকায় করেছে কোম্পানিটি। মূলত এরই ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি।

প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় আরো দেখা যায়, ২০১৩ সালের তুলনায় গত বছর কোম্পানির টার্নওভার প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৩ সালে কোম্পানির টার্নওভার ছিল ১০১ কোটি টাকা, যা ২০১৪ সালে ১৩১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে পরিচালন মুনাফা প্রায় ২১ শতাংশ বেড়েছে।

আইপিওর প্রসপেক্টাসে ২০১৪ সালে কোম্পানির দেনাদার হিসাব ও কাঁচামাল দেখানো হয়েছে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সম্পদমূল্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোম্পানির দেনাদার হিসাব ও মজুদ কাঁচামালের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে কোম্পানির কোনো বিনিয়োগ না থাকলেও ২০১৪ সালে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে।

২০১৪ সালে কোম্পানির ব্যাংকঋণের পরিমাণও বেড়েছে। এ সময় দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। চলতি বছর কোম্পানিটির ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এদিকে পুনর্মূল্যায়নের পর কোম্পানির সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

পেছনের খবর : ‘সিমটেক্স ১৫০ ও ১৫ শতাংশ’ লভ্যাংশ দিয়েছে

সিমটেক্সের প্রসপেক্টাস দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here