আইপিও শেয়ারে হতাশ বিনিয়োগকারী

1
33201

হোসাইন আকমল : আইপিও পরবর্তী নতুন তালিকাভূক্ত তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন বুধবার শুরু হয়েছে। ১৭ জুন ৫০ টাকায় লেনদেন শুরু হলেও কিছু সময়ের ব্যবধানে তা ৩৯ টাকায় নেমে আসে। দিনশেষে শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৩৫ টাকা ৭০ পয়সায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা হতাশায় রয়েছে তসরিফার বিনিয়োগকারীরা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে কয়েকটি সিকিউরিটিজ হাউজ ঘুরে জানা যায় বিনিয়োগকারীদের আক্ষেপের কথা।

সিনহা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, আইপিও সম্পন্ন করা নতুন তালিকাভূক্ত অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় তসরিফার ইপিএস ভাল। এ অবস্থায় ভাল দাম পাবার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু, ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় চলছে তসরিফার শেয়ারদর। এমন পরিস্থিতিতে আমরা অনেকটা হতাশ।

DSC02567

Sell-এর পরিমাণ কেমন, -জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবস্থা খুব আশাব্যঞ্জক নয়। কারণ, তসরিফা প্রায় আড়াই কোটি শেয়ার ছেড়েছে পুঁজিবাজারে। অবস্থা ভাল হলে এতক্ষণে ১ কোটির বেশি শেযার Sell হওয়ার কথা। খুব স্লো-মোশনে শেয়ারটির ট্রেড চলছে বলে মনে করেন তিনি। পরবর্তীতে মার্কেট ভাল হলে শেয়ারটির দাম বাড়তে পারে বিবেচনায় তিনি তসরিফার শেয়ার কিনতে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, যে কোন সময় ৫০ টাকায় যেতে পারে শেয়ারটির দর।

হ্যাক সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী তৌফিকুল আরিফ বলেন, বর্তমান বাজার বিবেচনায় তসরিফার শেয়ারদর যে পর্যায়ে রয়েছে তা স্বাভাবিক। তবে এর সাথে ১৬ টাকা প্রিমিয়াম থাকায় আমরা খুব একটা লাভবান হতে পারিনি। এ ধরণের কোম্পানিতে প্রিমিয়াম না থাকাই ভাল। তার ধারণা, শেয়ারদর আরো নেমে ৩০ টাকায় অবস্থান করতে পারে। কারণ, তসরিফার প্রতি বিনিয়োগকারীদের এখনো তেমন আগ্রহ তৈরি হয়নি।

DSC02566

বিডিবিএল সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী শান্ত বলেন, বর্তমান মার্কেট অনুযায়ী তসরিফার শেয়ারদর পারফেক্ট। মার্কেট ভাল হলে সব কোম্পানির মতো তসরিফার শেয়ারদরও বাড়বে। তবে লেনদেনে আসার আগে ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করলে এ শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরো বাড়তো। তখন শেয়ারপ্রাইস আরো ভাল হতো এবং Sell-এর পরিমাণও আরো বাড়তো বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, তসরিফার ইপিএস ভাল দেখালেও সে তুলনায় ডিভিডেন্ড আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তসরিফার শেয়ারদর ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় অবস্থান করতে পারে। লেনদেনে আসার আগে ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করলে বিনিয়োগকারীরা বোর্ড মিটিং বা ডিভিডেন্ডের বিষয়টি মাথায় রাখতো। শেয়ারটির দর তখন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় অবস্থান করতে পারতো বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, লেনদেন শুরুর দিন থেকে কম পক্ষে ১ সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা উচিৎ। এতে করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখা যায়।

তসরিফার শেয়ারের এখনকার দর অনুযায়ী তিনি ক্রয়ে আগ্রহী কিনা- জানতে চাইলে বলেন, বর্তমানে মার্কেট ডাউন চলছে। যদিও কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারদর সামান্য বাড়ার কারণে সূচক সবুজ দেখাচ্ছে। এ অবস্থায় মার্কেট আরো পড়তে পারে বিবেচনায় তসরিফার শেয়ার কিনতে আমি আগ্রহী নই। তবে মার্কেট ভালোর দিকে গেলে তখন বিবেচনা করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, মার্কেট ভাল বলতে আজ সূচক বেড়েছে, আবার কাল পড়েছে, তা নয়। পরপর কয়েক কার্যদিবস সূচক বাড়লে বোঝা যায়- মার্কেট ভালোর দিকে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীতের তখন আগ্রহ বাড়ে।

DSC02575

অন্যদিকে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো বলছে, তসরিফার লেনদেন ভাল। এবিষয়ে কারওয়ানবাজারের বিডিবিএল সিকিউরিটিজের অথোরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ জহুরুল হক বলেন, তসরিফার শেয়ারের Sell পরিস্থিতি মোটামুটি ভাল। তার শাখায় প্রায় ১০ হাজার শেয়ার Sell হয়েছে। এ্যাভারেজ  Sell Price কততে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

সিনহা সিকিউরিটিজের অথোরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ আল-আমীন বলেন, তসরিফার শেয়ারের Sell-এর পরিমাণ ভাল। এ্যাভারেজ  Sell Price কততে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩৬ থেকে ৩৯ টাকা।

মাইকা সিকিউরিটিজের অথোরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ লুৎফর রহমান বলেন, Sell  বেশ ভাল। এ্যাভারেজ  Sell Price কততে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩৯ টাকা।

হ্যাক সিকিউরিটিজের অথোরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ সুমন বলেন, Sell-এর পরিমাণ ভাল। এ্যাভারেজ  Sell Price কততে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

উল্লেখ্য, দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এন’ ক্যাটাগরীতে TOSRIFA নামে লেনদেন চলছে এ কোম্পানির। নতুন তালিকাভূক্ত কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড হচ্ছে ১৭৪৬৮। কোম্পানিটি ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার শেয়ার ছেড়ে শেয়ারবাজার থেকে মোট ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৬ টাকায় কোম্পানিকে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) কোম্পানির চাহিদার ১০ দশমিক ৫০ গুণ আবেদন জমা পড়ে।

বর্তমানে এ কোম্পানির ৫৫ শতাংশ শেয়ার এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং বাকি ৩৯ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

1 COMMENT

Comments are closed.