আইপিও শেয়ারেও আসছে সার্কিট ব্রেকার

2
2951

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের প্রথমদিনেই সার্কিট ব্রেকার আরোপ করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এমন পরিকল্পনা করছে কমিশন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, আইপিও-তে আসা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে কমিশন। আইপিও শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দর বাড়লে শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করে দেখবে কমিশন।

বিএসইসির কর্মকর্তারাও স্বীকার করেন, সার্কিট ব্রেকার না থাকার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র আইপিও শেয়ারের দর বাড়াচ্ছে। অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী অসচেতনতার কারণে ও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে পড়ে উচ্চ মূল্যে শেয়ার কেনাবেচা করছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শেয়ারদর বাড়াতে মালিকপক্ষের সংশ্নিষ্টতার প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে।

যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আইপিও শেয়ার লেনদেনে স্বচ্চতা আনার অংশ হিসাবে কমিশন সার্কিট ব্রেকার আরোপের চিন্তা-ভাবনা করছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

উল্লেখ্য, আইপিও শেয়ার লেনদেনের প্রথম দুই দিন কোনো সার্কিট ব্রেকার থাকে না। অর্থাৎ ওই দু’দিন যে কোনো মূল্যে শেয়ারটি কেনাবেচা হতে পারে। এমন সুযোগ রাখার কারণ প্রসঙ্গে সাইফুর রহমান বলেন, আইপিওতে আসা শেয়ারের যৌক্তিক মূল্য (ফেয়ার ভ্যালু) নির্ধারণ করার স্বার্থে সার্কিট ব্রেকার রাখা হয় না। বাজারকেই প্রকৃত দর খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার হচ্ছে।

চলতি বছরে আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর মধ্যে নূরানী ডাইং, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্যাসিফিক ডেনিম লেনদেনের শুরুতে যে দরে কেনাবেচা হয়েছে, এর তার অনেক কম মূল্যে কেনাবেচা হচ্ছে। একমি ল্যাবরেটরিসহ ২/১টি ব্যতিক্রম বাদে গত পাঁচ বছরে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা গেছে।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here