আইপিও পাইলট প্রজেক্টের অনুমোদন পায়নি ৪২ সিকিউরিটিজ

0
2519

হোসাইন আকমল : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ঘোষণা অনুযায়ী, পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আইপিও আবেদন করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় আর ব্যাংক নয়, আবেদন চলবে সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে। বিএসইসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী, হাউজগুলোতে ১লা এপ্রিল থেকে শুরু হবে আবেদনের এ প্রক্রিয়া।

বিএসইসি গত ১০ ফেব্রুয়ারি, আইপিও আবেদন-প্রস্তুতি সম্পন্নের প্রতিবেদন দাখিলের সময়-সীমা গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছিল। এছাড়া অনুমোদন পেতে ব্যর্থ সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে আইপিও আবেদন করা যাবে না বলে জানায় বিএসইসি।

এদিকে, বিএসইসিতে প্রতিবেদন দাখিলের বিপরীতে যাচাই-বাছাই শেষে এ পর্যন্ত ২০৮টি হাউজ পাইলট প্রজেক্টের অধীনে আইপিও আবেদন করার অনুমোদন পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এদের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন করতে পারবে। বাকি ৪২টি সিকিউরিটিজ হাউজ এখন পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি।  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাবলিক রিলেশন ডেস্ক (পিআরডি) কর্মকর্তা শফিউর রহমান বুধবার দৈনিক স্টক বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,  পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিবেদনসহ বিএসইসি’র অনুমতি প্রার্থনা করে ট্রেক হোল্ডাররা। এ প্রেক্ষিতে ২০৮টি হাউজকে অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি।

২৫০টির মধ্যে ৪২টি হাউজ অনুমোদন পায়নি কেন- জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাকি সিকিউরিটিজ হাউজগুলো বিএসইসির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আসার জন্য বিএসইসিতে তারা কাগজ-পত্র জমা দিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, তারাও যথাসময়ে অনুমোদন পাবে।

তবে ২০৮টি ছাড়া বাকি হাউজগুলো এখনপর্যন্ত অনুমোদন না পাওয়ার পেছনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএসইসিতে প্রতিবেদন জমা দিতে সক্ষম হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজ জমা দিতে দেরি করেছে।

পাইলট প্রজেক্টের আওতামুক্ত সিকিউরিটিজ হাউজগুলো হচ্ছে- মোহাম্মদী স্টক মার্কেট (ট্রেক নং-১৫), আব্দুল আহাদ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৩৬), শাহীক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৩৯), ইস্টার্ন ক্যাপিটাল লি. (ট্রেক নং ৪০), ট্রান্সকন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৫৫), ব্যাঙ্কো সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৬৩), প্রুডেনশিয়াল সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৭৩), রয়্যাল গ্রীণ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৭৭), লতিফ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৮০), মেহবুব হাসনাত জামান (ট্রেক নং ৮২), শামীম সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৮৩), আসিফ আহমেদ এন্ড কোং (ট্রেক নং ৮৪), জামিলুর রহমান সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৯২), মো: হোসেন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৯৬), আহসানুর রহমান সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১০৩), এবিএস সাফদার এন্ড কোং (ট্রেক নং ১২৪), দোহা সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১২৭), হেদায়েত উল্যাহ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৪০), ডন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৪১), সাখাওয়াত হোসেন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৪৪), ফরচুন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৪৭), আবদুল হাই সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৫০), এএইচসি সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৫১), শিল্প ব্যাংক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৫২), আল ফয়সাল সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৬১), খুরশীদ আলম সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৬৭), ফারইস্ট ইসলামি সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৭০), বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৭৮), মো: ইদ্রিস সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৮৮), সালাম এন্ড কোম্পানি লি. (ট্রেক নং ১৯০), এএম সিকিউরিটিজ এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (ট্রেক নং ২০৫), বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লি. (ট্রেক নং ২১১), ডায়নামিক স্টিল কমপ্লেক্স লি. (ট্রেক নং ২১২), নেক্সাস সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২১৮), প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২১৯), ট্রেজার সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২২১), মিরর ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট (ট্রেক নং ২২৩), কনমার্ক লি. (ট্রেক নং ২২৮), মেঘনা লাইফ সিকিউরিটি এন্ড ইনভেস্টমেন্ট (ট্রেক নং ২৪৫), রূপালী ব্যাংক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২৪৬), বোরাক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২৪৭) এবং উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজ।

এর মধ্যে ১৩টি হাউজের ট্রেক লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তবে অন্য হাউজগুলো পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আইপিও আবেদনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, দেরিতে হলেও তারা সংশ্লিষ্ট কাগজ-পত্র  বিএসইসিতে জমা দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here