৬ তলা ভবনের কাজ প্রায় শেষ, এগিয়ে চলছে এসকে ট্রিমস

0
347

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানি এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গত বছর পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত ৩০ কোটি টাকা ভবন নির্মাণ, সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করছে।

গাজীপুরের টঙ্গীর তিলারঘাটিতে ১ একর জায়গার ওপর কোম্পানিটির অফিস ও ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও ১০ কাঠার জায়গার ওপর গার্মেন্টস তৈরির কাজ চলমান এবং গার্মেন্টস তৈরিতে বালু ভরাটের কাজ চলছে। সম্প্রতি টঙ্গীর তিলারঘাটিতে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আবদুল মালেক তালুকদার স্টক বাংলাদেশকে বলেন, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি পোশাক খাতের জন্য সেলাইয়ের সুতা, ইলাস্টিক, পলি, কার্টন, ফটো কার্ড, ব্যাক বোর্ড, বার কোড, হ্যাং ট্যাগ, টিস্যু পেপার, গাম টেপসহ গার্মেন্টেসের অল এক্সেসরিজ উৎপাদন করে থাকে। এসব পণ্য অরিয়ন নিটওয়্যার, রিদিশা গ্রুপ, জেনেটিক ফ্যাশন, পিনাকি গ্রুপসহ বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৪শ’ কেজি পলি, ১০ হাজার স্কয়ার মিটার কার্টুন উৎপাদন করে থাকে এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

কারখানা সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে ১১০/১১২ জন শ্রমিক গার্মেন্টেসের এক্সেসরিজ উৎপাদন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিদিন সকাল ৮টায় শুরু হয় কারখানার কার্যক্রম, যা বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। এরমধ্যে যেসব শ্রমিক অতিরিক্ত ডিউটি করেন তারা রাত ৮ পর্যন্ত কাজ করে থাকেন। অতিরিক্ত কাজের জন্য তাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে ওভার টাইম দেয়া হয়।

এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের এক শ্রমিক বলেন, বেতন, বোনাস এবং ওভারটাইম ঠিকমতই কোম্পানি দেয়। এছাড়াও নাস্তার ব্যবস্থাতো রয়েছে। সব মিলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।কোম্পানির ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজার থেকে উত্তলিত ৩০ কোটি টাকার মধ্যে একুইজিশন অব মেশিনারিজ অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্টস বাবদ ১২ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭২ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। যা এখন অব্যয়িত অবস্থায় রয়েছে। বিল্ডিং নির্মাণ ও অন্যান্য সিভিল কাজের জন্য কোম্পানি ১৪ কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার ২৮ টাকা বরাদ্দ রেখেছে।

যা থেকে নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ২ কোটি ৯৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং শুধু ডিসেম্বর মাসে ব্যায় করেছে ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত এ খাতে মোট ব্যায় হয়েছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এখাতে এখনও অব্যয়িত রয়েছে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ২৮ হাজার ২৮ টাকা।

আইপিও এক্সপেন্সেসের জন্য কোম্পানিটি ২ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এরমধ্যে নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত এখাতে ব্যায় করেছে ২ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৫ টাকা। ডিসেম্বর মাসে এখাত থেকে কোন টাকা ব্যয় করেনি কোম্পানিটি। এখাতে এখনও অব্যয়িত রয়েছে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৩৫ টাকা।

এছাড়াও পুঁজিবাজার থেকে উত্তলিত টাকা আরও কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে সেব্যাপারে কোম্পানি সচিব সিরাম বিন সারোয়ার মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অভিহিত মূল্যে শেয়ার বেচে ৩০ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলনের জন্য গত বছরের ১৪ থেকে ২২ মে পর্যন্ত আইপিওর চাঁদা গ্রহণ করে এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here