আইপিও আবেদনে দেখা মিলছে না বিনিয়োগকারীর

0
5434

হোসাইন আকমল : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করছে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। চলতি বছরের ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে তসরিফার প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে  আবেদন। ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার আবেদনের শেষ দিন। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ থাকবে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। নতুন ও পুরাতন উভয় পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে কোম্পানিটির আইপিও টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।

তসরিফার আইপিওতে আবেদনের ৩য় দিনে এসেও তেমন সাড়া দেখা যায়নি বিনিয়োগকারীদের। রোববার দুপুরে কারওয়ানবাজার ও মতিঝিলের কিছু ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ হাউজ ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ানবাজারের প্রাইম ব্যাংকে তসরিফার আইপিওতে আবেদনকারীদের উপস্থিতির অকাল লক্ষ্য করা গেছে। মাঝে মাঝে ২-৪ জন আবেদনকারী ছাড়া অধিকাংশ সময় লাইন ছিল জনশূন্য। আবেদন শুরুর দিন থেকে  ব্যাংকটিতে  এ পর্যন্ত  সাধারণ প্রায় ২ শ’ ৫৬টি ও ক্ষতিগ্রস্ত মাত্র ১০টি আইপিও আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান ঐ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। টাকার অংকে সাধারণ ১৩ লাখ ৩১ হাজার ২ শ’ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ৫২ হাজার টাকা। সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মিলে একত্রে ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ২ শ’ টাকা।

পান্থপথের মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকে (এমটিবি) তসরিফার আইপিওতে আবেদনকারীদের তেমন ভীড় না থাকলেও স্বাভাবিক উপস্থিতি ছিল। আবেদন শুরুর দিন থেকে  ব্যাংকটিতে  এ পর্যন্ত  সাধারণ প্রায় ১ হাজার ৩ শ’ ৩৮টি ও ক্ষতিগ্রস্ত ১ শ’ ৩৭টি আইপিও আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান ঐ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। টাকার অংকে সাধারণ ৬৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬ শ’ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ লাখ ১২ হাজার ৪ শ’ টাকা। সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মিলে একত্রে ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

MTB

কারওয়ান বাজারের ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংকেও (এনসিসি ব্যাংক) বিনিয়োগকারীর খুব একটা ভীড় লক্ষ্য করা যায়নি। আবেদন শুরুর দিন থেকে ব্যাংকটিতে এ পর্যন্ত সাধারণ প্রায় ১ হাজার ৫ শ’টি ও ক্ষতিগ্রস্ত ১ শ’ ৫০টি আইপিও আবেদন জমা পড়েছে। টাকার অংকে সাধারণ ৭৮ লাখ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মিলে একত্রে ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

NCC

ওয়ান ব্যাংকে আইপিও-আবেদনকারীদের কিছুটা ভীড় দেখা গেছে। আবেদন শুরুর দিন থেকে ওয়ান ব্যাংকের ৬৫টি শাখায় (একত্রে) গত ২৫ মার্চ পযর্ন্ত সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মিলে ২৭ হাজার ৫০০ শ’টি আইপিও আবেদন জমা পড়েছে। টাকার অংকে সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মিলে ১৪ কোটি ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

প্রসঙ্গত, আইপিও আবেদন শুরুর আগেই তসরিফাকে নিয়ে পুঁজিবাজারে চলে অনেক গুঞ্জন। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরপরই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। এর ফলে কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদনের এমন দৈন্যতা বলে বিনিয়োগকারীদের অনেকেই মনে করছেন। কারণ, এ কোম্পানির আইপিও-পূর্ববর্তী ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে ছেড়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০০টি শেয়ার। এতে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার। অন্যদিকে ২০১২ সাল থেকে কোম্পানিটি কর পরিশোধের পর মুনাফা দেখিয়ে আসছে ৮ কোটি টাকার ওপরে। এতো অল্প পরিমাণ মুনাফায় কোম্পানির ডিলিউটেড ইপিএস তখন অনেক কমে যাবে। ফলে পিই রেশিও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আবার, তসরিফা ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রতিটি শেয়ারের ইস্যুমূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২৬ টাকা। সে হিসেবে এ কোম্পানির প্রাইস আর্নিং (পিই) রেশিও হবে ১০.৪৪।

প্রসপেক্টাসের ১১১ অনুযায়ী,  ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিবেদনে  এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দেখানো হয়েছে ২.৪৯ টাকা। এ সময় শেয়ার প্রতি আয় এত ভাল থাকলেও তারা কোনরূপ লভ্যাংশ প্রদান করেননি। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের সর্বশেষ ২০১১ সালে (১০% বোনাস শেয়ার) লভ্যাংশ দেয়।

এদিকে, ২০১৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় চলে এসেছে এ কোম্পানির। আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক শিল্পে চলছে মন্দাবস্থা। এতে দিন দিন কমছে এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার প্রতি আয় (EPS)। এমন পরিস্থিতির মুখে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে তসরিফা। আইপিওতে আসার ফলে মাত্র ৮ কোটি টাকা মুনাফার এ কোম্পানিকে এখন ৫ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার শেয়ারের ওপর হিসেব করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে হবে। যা কোম্পানিটির পক্ষে অতি দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করতে পারলে কোম্পানির অবস্থান হবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে। বিনিয়োগকারীরা তখন এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো মার্জিন লোন সুবিধা পাবেন না। কোম্পানিটি বিবেচিত হবে দুর্বল মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি হিসেবে। এসব বিষয় ঘিরেই বিনিয়োগকারীদের মনে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। যার প্রভাব পড়েছে এ কোম্পানির আইপিওতে।

উল্লেখ্য, বিএসইসির ৫৩৮তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির আইপিওর অনুমোদন দেয়া হয়। আইপিওর মাধ্যমে এ কোম্পানি ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০০টি শেয়ার ছেড়েছে। এর মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। এ জন্য ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সঙ্গে ১৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা। মার্কেট লট ২০০টি। আইপিও ব্যবস্থাপনায় কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here