আইপিও অনুমোদন বন্ধ

2
10247

ডেস্ক রিপোর্ট : অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির কারণে  গত এক মাস ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন বন্ধ রেখেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মূলধন মার্কেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক চিঠির পরই এক ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে আইপিও অনুমোদনে কমিশনকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ২এ(৪) অনুুযায়ী, কমিশন মূল্য (আইপিও ইস্যু মূল্য) নির্ধারণ করবে না। চিঠিতে অন্য এক আইনের কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, কমিশনের মূল উদ্দেশ্য, দায়িত্ব ও কার্যাবলি হচ্ছে সিকিউরিটিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সিকিউরিটির যথার্থ ইস্যু নিশ্চিতকরণ ও সিকিউরিটি বা সিকিউরিটি বাজার সম্পর্কিত প্রতারণামূলক ও অসাধু ব্যবসা বন্ধকরণ।

একই সঙ্গে ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, আইপিওর স্থির মূল্য পদ্ধতিতে (ফিক্সড প্রাইস মেথড) প্রিমিয়ামে শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে একাধিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। ওই পদ্ধতিগুলোর সঠিক ব্যবহার এবং ব্যবহৃত উপাত্তের নির্ভুলতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা আবশ্যক। চিঠিতে শেয়ারদর নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ এবং কোম্পানির প্রস্তাবিত দরে যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কমিশনকে আইপিও অনুমোদন করতে
বলা হয়েছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ এমন চিঠিতে বিব্রত কমিশন। তারা বলেন, চিঠিটি কমিশনকে পাঠানো হয়নি; বরং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ওই চিঠিতে বেশ কিছু আইন ও বিধির ধারা উল্লেখ করে আইপিও অনুমোদন দিতে বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কমিশন সেসব আইন ও বিধি অনুসরণ করেই আইপিও অনুমোদন করে থাকে। মন্ত্রণালয়ের কাছে আইপিও অনুমোদন বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উঠে থাকলে বা অভিযোগ থাকলে তার ব্যাখ্যা চাইতে পারত।

জানতে চাইলে কমিশনের অন্য এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই অভিযোগ করে থাকেন। বিশেষত কোনো কোম্পানিকে আইপিওতে প্রিমিয়াম অনুমোদন করলেই সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এ ধারায় অর্থ মন্ত্রণালয়ও যুক্ত হয়েছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে। তারপর পুনরায় আইপিও অনুমোদনের বিষয় বিবেচনা করবে কমিশন।

 সাধারন বিনিয়োগকারীরা অনেকদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে  ঘন ঘন আইপিওর কারণে সেকেন্ডারি মার্কেট স্থিতিশীল হতে পারছে না। আইপিওর শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে অনেক প্রভাব ফেলে। ২০১০ ধ্বসের পরে মার্কেট এখনো স্থিতিশীল হতে পারে নাই। পরপর দুই দিনে দুই নতুন কম্পানির শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন হতে দেওয়া কমিশনের খামখেয়ালি ছাড়া আর কিছুই না। এ ব্যাপারে কমিশনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করে বিনিয়োগকারীরা।

2 COMMENTS

Md tonu শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here