আইপিও অনুমোদন পাওয়া রিং সাইনের কাজ এগিয়ে

0
1797

সিনিয়র রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘কানসার্ন লেটার’ হাতে পেলে বাকি সব কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করেন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করার অনুমোদন পেয়েছে। উত্তোলিত টাকায় যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ খাতে ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

আইপিও অনুমোদন শেষে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংক্ষেপে কোম্পানি সেক্রেটারি আশরাফ আলী রোববার দুপুরে বলেন, কমিশন থেকে কনসার্ন লেটার এখনো পাইনি। তবে আশা করছি- শিগগিরই আমরা হাতে পাব। হাতে পেলেই আইপিও সংক্রান্ত অন্যান্য সব কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করতে পারব।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে পুঁজিবাজারে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করবে রিং শাইন টেক্সটাইলস।

-কোম্পানির প্রোসপেক্টাস থেকে নেয়া চিত্র

কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮৬ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন ব্যতীত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ১৭ পয়সা। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল ও সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেড।

রিং শাইন টেক্সটাইলসের আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোম্পানিটি ১৯৯৮ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। সাভারের গণকবাড়ীতে ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) কোম্পানিটির কারখানা অবস্থিত।

-কোম্পানির প্রোসপেক্টাস থেকে নেয়া চিত্র

দেশের শতভাগ রফতানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলোয় বিভিন্ন ধরনের ফ্যাব্রিকস ও ডাইড ইয়ার্ন সরবরাহ করে। বর্তমানে কোম্পানিটির বার্ষিক ২ কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি অ্যাক্রিলিক ও কটনভিত্তিক ইয়ার্ন ডায়িং, ৫১ লাখ কেজি অ্যাক্রিলিক ইয়ার্ন স্পিনিং, ১ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার কেজি ফ্লিস ফ্যাব্রিক নিটিং ও ১ কোটি ৩০ লাখ কেজি ফ্লিস ফ্যাব্রিক ডায়িং ও ফিনিশিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে।

আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা যন্ত্রপাতি বাবদ, ৫০ কোটি টাকা ব্যাংক বাবদ আর ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আইপিও প্রক্রিয়ায় ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

ব্যাংকঋণের মধ্যে ঢাকা ব্যাংকের সাভার শাখার অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের ২৮ কোটি ও ওরি ব্যাংকের ঢাকা শাখার ২২ কোটি টাকা আইপিও তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। অর্থ হাতে পাওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে আইপিও তহবিল ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। ৩০ জুন ২০১৮ পর্যন্ত কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৩৭৯ কোটি টাকা।

-কোম্পানির প্রোসপেক্টাস থেকে নেয়া চিত্র

৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে রিং শাইন টেক্সটাইলসের বিক্রি হয়েছে ৯৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭০৮ কোটি টাকার ইয়ার্ন ও ২৯১ কোটি টাকার পোলার ফ্লিস বিক্রি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা আর ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা।

আইপিও প্রসপেক্টাসে তিনটি পদ্ধতিতে কোম্পানিটির শেয়ারের ভ্যালুয়েশন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইকুইটিভিত্তিক ভ্যালুয়েশনে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৩ টাকা ১৭ পয়সা, হিস্টোরিক্যাল আর্নিংয়ের ভিত্তিতে ২৮ টাকা ৪৬ পয়সা ও সমজাতীয় শেয়ারের বাজারমূল্যের গড়ের ভিত্তিতে কোম্পানিটির শেয়ারের ভ্যালুয়েশন ৩২ টাকা ১১ পয়সা।

-কোম্পানির প্রোসপেক্টাস থেকে নেয়া চিত্র

রিং শাইন টেক্সটাইলের মূল উদ্যোক্তা সিঙ্গাপুরের সুং ইয়াও মিন ও গো জিওক সিয়ান। তারা দুজনই ২০০২ সালে তাদের সমদুয় শেয়ার কোম্পানিটির বর্তমান চেয়ারম্যান সুং জাই মিন ও পরিচালক হ্যাং শিই লাইয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন সুং উই মিন।

বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২৮৫ কোটি টাকা, আইপিওর পর যা ৪৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, ইস্যু ব্যবস্থাপনায় রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং সিএপিএম এডভাইজরি লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here