আইপিও অনুমোদন নেই, ‘লাভ-ক্ষতি কার’

0
2826

শাহীনুর ইসলাম : ‘আইপিও অনুমোদন গত এক মাস ধরে নেই। কমিশন অনুমোদন দিচ্ছে না। ভালো কোম্পানি অনেক আছে, অনুমোদন দেয়ার মতো। কিন্তু দিচ্ছে না, কেন দিচ্ছে না? বাজারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসার মতো অনেক কোম্পানি আছে। আর কমিশন অনুমোদন না দেয়ার অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

এসব কথা বলেন দেশের শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক এএফসি ক্যাপিটেল লিমিটেডের সিইও মাহবুব এইচ মজুমদার।

তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, গত ১ মাসে কমিশন কোন আইপিও অনুমোদন দেয়নি। এতে লাভ-ক্ষতি কার? কেননা, বাজার তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাবে। এখানে আইপিও অনুমোদনের কারণে যে বাজার ক্ষতি হচ্ছে, তা নয়। না দেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেকে এবং অনেকভাবে।

মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২ মে বৈঠক করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। বিএসইসিতে চারটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। ইস্যুগুলোর মধ্যে- বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আইপিও অনুমোদন না দেয়া, কোম্পানির স্পন্সরদের শেয়ার বিক্রি বন্ধ রাখা, ব্রোকার ডিলারদের একাউন্টসের সক্ষমতা বাড়ানো এবং চাহিদা তৈরি না করে যোগান না বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

‘বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত নতুন আইপিও অনুমোদন’ প্রসঙ্গে মাহবুব মজুমদার বলেন, কমিশন চাইলে অনুমোদন দিতে পারবে। তবে কেন দিচ্ছে না, তা কমিশনের বিষয়।

নতুন আইপিও অনুমোদন না দেয়ায় ‘পুঁজিবাজারের অগ্রগতি’ সম্পর্কে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক ও এমটিবি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ বলেন ভিন্ন কথা।

তিনি বলেন, আইপিও অনুমোদন দেয়া বন্ধ নয়। বৈঠকে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দাবি করেছিল, কিছু দিন বন্ধ রাখা হোক। এ সময়ে নতুন শেয়ার বাজারে না এলে বাজার একটু ভালোর দিকে এগিয়ে যেতে পারবে বলে তাদের ধারণা।

তিনি বলেন, আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলো লিকুইট মানি তুলে নিচ্ছে, এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও বাজারে প্রভাব থাকে। পৃথিবীর সব দেশেই আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়, তবে আইপিও বন্ধ রেখে বাজার সুস্থ্যতার দিকে যাবে এটা ভুল ধারণা।

এর জন্য চাই লংটার্মে ইনভেস্টমেন্ট। করতে পারলেই ভালোর দিকে যাবে বলেন তিনি।

সে বৈঠকে ‘আইপিও একেবারে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়নি’ বলেন এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) মোহাম্মদ শাহেদ ইমরান।

তিনি বলেন, নতুন শেয়ার বাজারে এলে বিক্রয় চাপ একটু বাড়ে। সে চাপ আপাতত ঠেকানোর জন্যই এ প্রস্তাবনা ছিল। যারা আইপিও শিকার করে, তারা এর মধ্যেই ব্যস্ত থাকে। কারণ, ৩০ টাকার আইপিও শেয়ার ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝখানে চলে যাচ্ছে ৫০ টাকা। এই ৫০ টাকা কিন্তু আর বাজার ফিরছে না বলেন শাহেদ ইমরান।

বাংলাদেশ সিকিউরটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসই) থেকে জানানো হয়, আইপিও বন্ধ নয়, তবে বাজার সুস্থতার জন্য কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রয়েছে।

আইপিও সম্পর্কে লংঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শীর্ষ এক কর্মকতা নাম প্রকাশ করা অনুরোধে বলেন, কমিশন চাইলে আইপিও অনুমোদন দিতে পারবে। নতুন নিয়মে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি তারা অনুমোদন দিতে পারে, কিন্তু না দেয়ায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‘বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আইপিও অনুমোদন না দেয়া’ বিষয়টি যুক্তিপূর্ণ নয়। শুধুই মগজ ধোলাই, তাছাড়া আর কিছু নয়।

কমিশনে ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানির আইপিও ‘নতুন নিয়মে অনুমোদনের অপেক্ষায়’ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- লির্ডস কর্পোরেশন, ইয়াকিন পলিমার, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সসহ আরো অনেক কোম্পানি।

তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের থেকে অনেকে বলেন, এই মুহূর্তে আইপিও অনুমোদন না দেয়াই ভালো। ইতোমধ্যে একমি ল্যাবরেটরিজ বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করে। ইভান্স টেক্সটাইল টাকা তুলে নিচ্ছে।

আইপিও অনুমোদন না দেয়ায় এতে বাজারে লিকুইট মানির অভাবটা কিছুটা হলেও পূরণ হবে, মনে করেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here