আইপিও অনুমোদনের অপেক্ষায় ইনডেক্স এগ্রো

0
3322

সিনিয়র রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়ে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসছে কোম্পানিটি। রাজধানীর ট্রাস্ট মিলনায়তনে গত বছরের অক্টোবার মাসে রোড শোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

রোড শো করার পরে ইস্যু ব্যবস্থাপক কোম্পানি এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করেছে। সকল তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করায় শিগগিরই কোম্পানির আইপিও অনুমোদন মিলবে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং কোম্পানির বিশেষ সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করবে। পরে সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে। যে দামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সে দামে জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।

৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য যতো শেয়ার বিক্রি করা প্রয়োজন, ততগুলো শেয়ার ইস্যু করবে কোম্পানিটি। ইনডেক্স এগ্রো আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রায় ৯৫ শতাংশ তথা ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় করবে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও প্রজেক্ট স্থাপনে।

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্রিডার ফার্ম সম্প্রসারণে ১০ কোটি ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় ১২ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে করে ফিস প্লান্ট এবং ফিড মিল সম্প্রসারণ করা হবে। ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বগুড়াতে ব্রিডার ফার্মের সম্প্রসারণ, হ্যাচারি সম্প্রসারণে ৫ কোটি ৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং আইপিওতে খরচ করা হবে ২ কোটি টাকা।

কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৩৯ কোটি টাকা। ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ০২ পয়সা।

mazhar

আলোচ্য বছরে কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। যা এর আগের বছরে ছিল ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আলোচ্য সময়ে শেষে কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৬ পয়সা।

কোম্পানিটি মূলত ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খাবার উৎপাদন ও সরবরাহ করে। এছাড়া কোম্পানিটি মাছের খাবার তৈরি করে। যা দেশীয় মার্কেটে বিক্রি হয়। এখন অবশ্য কোম্পানিটি ১ দিনের বাচ্চা উৎপাদন করছে।

অক্টোবরে অনুষ্ঠিত রোড শোতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহিন বিন মাজহার বলেন, বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাত সম্ভাবনাময়। এই খাতে উন্নয়নের বেশ সুযোগ রয়েছে। তবে ২ ধরনের ঝূঁকি এখানে আছে। বাজারে প্রতিযোগিতা ও মড়কের ভয়। আমাদের শক্তিশালী ম্যানেজমেন্ট থাকায় এমন ঝূঁকি মোকাবেলা সম্ভব হয়।

mamun-index-agro

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্থিরতা বা দামের ব্যাপক উঠা-নামা এই শিল্পের একটি অংশ। এটা মাথায় রেখে ব্যবসা করতে হয়। উন্নত দেশগুলোতে ঠিক আমাদের দেশের মতোই ভোলাটালিটি রয়েছে। তাদের যোগ্য ব্যবস্থাপনা সেটা কাটিয়ে ওঠা যায়, যা আমাদেরও আছে।

মুরগির মড়ক মোকাবেলায় আমাদের বায়োলজিক্যাল ল্যাব রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও ব্রিডার ফার্ম ও বাচ্চা উৎপাদন বৃদ্ধির ইচ্ছা রয়েছে। ইনডেক্স এগ্রোর চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল কাদির অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানান।

index-agro-director

নিয়ম অনুসারে, কোম্পানির কাছে কোনো কিছু জানার থাকলে আগামী ৩ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এর ভিত্তিতে কোম্পানি তার প্রসপেক্টাসে সংশোধনের কিছু থাকলে তা বিবেচনা করবে।

ইনডেক্স এগ্রোকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড ও ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। রেজিস্ট্রার টু দি ইস্যুর দায়িত্বে রয়েছে ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে এএফসি ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব এইচ মজুমদার, ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল হোসেন আসিফ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধি ও কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here