আইপিওর টাকা এখনো ব্যবহার করেনি তুংহাই নিটিং

0
803

সিনিয়র রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ২ বছর ৪ মাস পার হলেও সম্প্রসারণ প্রকল্প সম্পন্ন করা হয়নি। ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও নতুন মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মূলধনি অর্থের জোগান দিতে পুঁজিবাজার থেকে ৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড।

আইপিওর অর্থপ্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে নতুন মেশিন সংযোজনের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়া হয় প্রসপেক্টাসে। তারপরেও আইপিওর টাকা এখনো ব্যবহার করেনি তুংহাই নিটিং কোম্পানি। কোম্পানির বিশেষ একটি সূত্র স্টক বাংলাদেশকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড প্রকাশিত প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজার থেকে ৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ১৬ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ পরিশোধ, নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনে ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, চলতি মূলধন ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ও অবশিষ্ট ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা আইপিও খরচ বাবদ ব্যয় দেখায় প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের সময় নিয়েছিল কোম্পানিটি।

স্টক এক্সচেঞ্জ ও কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও চলতি মূলধনে নির্ধারিত সময়ে আইপিওর অর্থ ব্যবহার সম্পন্ন হলেও নতুন মেশিনারিজ স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি। আইপিওর অর্থ ব্যবহারের অগ্রগতি বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা কোম্পানির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২ বছর ৪ মাসে কোম্পানিটি ৬০ শতাংশ যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পেরেছে।

তবে এখনো তা সংযোজন হয়নি। ফলে সম্প্রসারণের মাধ্যমে কোম্পানির উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম থমকে গেছে। এ অবস্থায় আইপিওর অর্থ ব্যবহার সম্পন্ন করতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছ থেকে একাধিকবার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বিএসইসিও তাতে সম্মতি দিয়েছে।

আইপিওকালীন তুংহাই নিটিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ছিল ১৩ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে এসে ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। চলতি হিসাব বছরে ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আইপিওর পর কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ কমেছে। আইপিওকালীন প্রতিষ্ঠানটির স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় নেমেছে। তবে ঋণের পরিমাণ কমে আসায় সুদ বাবদ খরচ কমলেও আর্থিক প্রতিবেদনে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি।

কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির টার্নওভার ছিল ৮০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা কম। টার্নওভার কমে যাওয়ায় মোট মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সুদ বাবদ খরচ কমেছে। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির সুদ বাবদ খরচ প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা কমেছে।

কোম্পানির দেয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত (তৃতীয় প্রান্তিক) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দঁড়িয়েছে ৮৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৬ পয়সা। একই সময়ে ২০১৫ সালে এনএভি দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৪৮ পয়সা; ২০১৪ সালের একই সময়ে যা ছিল ১৭ টাকা ৭৯ পয়সা। পুঁজিবাজারে আসার পর কোম্পানিটির ইপিএস ও এনএভি দুটিই কমেছে।

পুঁজিবাজারে আসার পরে তুংহাই নিটিং ২০১৪ সালের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় শেয়ারহোল্ডারদের। সে সময় কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা ও এনএভি ছিল ১২ টাকা ৭৯ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে লেনদেন শুরু করে। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের হাতে ৩০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক শোয়ারহোল্ডারদের হাতে ১৩ দশমিক ৪৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার। শর্ট টার্ম ঋণ রয়েছে ২১ কোটি ৮০ লাখ ও লং টার্ম ঋণ রয়েছে ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

তালিকাভুক্তির পরে কোম্পানির অভিহিত মূল্যের শেয়ার দর উঠেছিল ২৫ টাকায়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই শেয়ার দর কমতে থাকে। এপ্রিল মাসে ফের কিছুটা বেড়ে ২৩ টাকায় উঠলেও আবার দর পতন শুরু হয় তুংহাইয়ের শেয়ার। সে সময়ে সর্বোচ্চ ২৫ টাকায় লেনদেন হয়েছিল কোম্পানিটির শেয়ার দর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here