মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান :  প্রফিট করতে হবে সঠিক পন্থায়। কাউকে ঠকিয়ে কখনই প্রফিট করা ঠিক না। ২০১০ সালে পুঁজিবাজার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে কিছু কুচক্রি মহল। সেসময় অর্থ হারিয়ে পথে বসেছিল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। অনেকে আত্বহত্যাও করেছেন। এই কুচক্রি মহল যা করেছে তা মেনে নেয়ার মতো নয়।

রোববার রাজধানীর গুলশানের লেক শোর হোটেলে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাকের রোড শো অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম এসব কথা বলেন।

মোরশেদ আলম বলেন, ১৯৬৯ সালে আমি প্রথম ব্যবসা শুরু করি। তখন আমার বয়স ২২ বছর। আমার এই অবস্থানে আসতে দীর্ঘ ৪৭ বছর লেগেছে। আমি দৌড়ে দৌড়ে এই অবস্থানে আসিনি; হেটে হেটে এসেছি। আমি জানি কাউকে না ঠকিয়ে কিভাবে ব্যবসায় প্রফিট করতে হয়।

তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাকে বিনিয়োগ করেন। ব্যবসায় লাভবান আমরা সবাই হবো। আমার চার ছেলে ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা প্রত্যেকেই নামাজ পড়ে। এমনকি জামায়াতে গিয়ে নামাজ পড়ে। কোনভাবেই তারা আপনাদের ঠকানোর চিন্তা করবে না।

কোম্পানির পরিচালক হুমায়ন কবির বাবলু বলেন, এখন কোম্পানিটি বার্ষিক ব্যাগ উৎপাদন করে ৬ কোটি পিস। আগামী ডিসেম্বরে এই উৎপাদন আরও বাড়বে। সরকার ঘোষিত পাটনীতির কারণে তাদের ব্যবসায় সামান্য ক্ষতি হয়েছিলো; তবে তা মুনাফাতে তেমন প্রভাব ফেলেনি। জাম্বু ব্যাগ উৎপাদন পুরোপুরি চালু হলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

নিয়ম অনুসারে, কোম্পানির কাছে কোনো কিছু জানার থাকলে আগামী ৩ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এর ভিত্তিতে কোম্পানি তার প্রসপেক্টাসে সংশোধনের কিছু থাকলে তা বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রাাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে শেয়ার ছেড়ে ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসবে এই কোম্পানিটি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসই) অনুমতি পেলে প্রথমে কোম্পানিটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করবে। পরে সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে। যে দামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সে দামে জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য যতগুলো শেয়ার বিক্রি করা প্রয়োজন, ততগুলো শেয়ার ইস্যু করবে কোম্পানিটি।

বেঙ্গল পলি আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রায় ৬২ শতাংশ তথা ৩৪ কোটি টাকা ব্যয় করবে ব্যবসা সম্প্রসারণে। এই অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি তৃতীয় ইউনিট স্থাপন করবে, যেখানে জাম্বু সাইজ (বড় আকারের) পলি ব্যাগ উৎপাদন করবে। এই ইউনিট হবে শতভাগ রপ্তানিমুখী-রোড শোতে তিনি এমনটিই জানিয়েছেন।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, আইপিওর ৩২ শতাংশ অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবে, এর পরিমাণ ১৮ কোটি টাকা। পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের মধ্য থেকে ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় করা হবে নতুন যন্ত্রপাতি আমদানিতে।  জমি ও কারখানা ভবনের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা। গভীর নলকূপ স্থাপনে ১০ লাখ টাকা, বৈদ্যতিক তার ও লাইন স্থাপনে দেড় কোটি টাকা। সাব স্টেশন ও অন্যান্য বিষয়ে ২ কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ১৮ কোটি  টাকা। আর কোম্পানির ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে আইপিও প্রক্রিয়ার জন্য।

কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ২৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।

৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস (ওয়েটেড এভারেজ) হয়েছে ২ টাকা ৭১ পয়সা। যা আগের বছর এই ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩৫ পয়সা।

আলোচ্য বছরে কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। যা এর আগের বছরে ছিল ৮ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। সর্বশেষ সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন শেষে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৯৭ পয়সা। আর সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন বাদ দিলে শেয়ার পতি সম্পদ মূল্য হয় ২২ টাকা ৮০ পয়সা।

বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাককে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে পালন করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আর রেজিস্ট্রার টু দ্য ইস্যু হিসেবে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

রোড শোতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ খান, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাকের পরিচালক জসিম উদ্দিন, শামসুল আলম, সাইফুল আলম ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here