আইপিওতে ৫২৩ কোটি টাকা তুলবে রবি

0
1489

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড শেয়ার বাজারে আইপিও ছাড়ার অনুমতি পেয়েছে। বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এটি দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ আইপিও বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫২৩ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যে এই আইপিও’র ইস্যু মূল্য ধরা হয়েছে ১০ টাকা করে। বাংলাদেশ সরকারের সাথে সৌহার্দ্যের স্মারক হিসাবে এত বড় আইপিও নিয়ে এসেছে শতভাগ বিদেশি মালিকানার এই কোম্পানি। দেশের বাজারে এ আইপিও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেছেন।

রবি আজিয়াটা লিমিটেড বলছে, ৫২৩ কোটি টাকা বাংলাদেশের বাজার থেকে তোলার জন্য তাদের যতটা না আগ্রহ ছিল; তার চেয়ে আগ্রহ গ্রাহক এবং দেশের মানুষের সাথে একটি বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানির মালিকানা শেয়ার করায়।

কোম্পানিটি গত বছর দেশের পুঁজিবাজারে আসার জন্য উদ্যোগ নেয়। এ জন্য নিয়োগ করে ইস্যু ম্যানেজার। পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ নিশ্চিত করার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তারা বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরেছে।

দেশের সবচেয়ে বেশি কর সংগ্রহ করা খাত টেলিকম। এ খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ২ শতাংশ মিনিমাম টার্নওভার ট্যাক্স। গত বছর ২ শতাংশ মিনিমাম টার্নওভার ট্যাক্সের জন্য কার্যকর করের হার দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশ। টার্নওভার ট্যাক্স প্রত্যাহার করা না হলে এ বছর কার্যকর করের হার দাঁড়াবে ৮০ শতাংশের বেশি।

বর্তমানে শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত কোম্পানির জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেয়া হয়ে থাকে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত করের পার্থক্য ১০ শতাংশ হওয়া উচিত যা ১০ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। এ খাতের কর সীমা সহনীয় করার দাবি জানিয়েছে রবি।

রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, আমাদের আইপিও আবেদনে সদয় অনুমোদন প্রদানের জন্য বিএসইসিকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এটি নিঃসন্দেহে রবির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মুলধনী শেয়ার হিসেবে আমরা তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। সরকারের কাছে আমাদের কিছু প্রত্যাশা ছিল, আমরা আশা করছি এ অনুমোদনের সাথে সাথে সে বিষয়গুলোও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সদয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।

সাহেদ আলম বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে রবিতে জনগণের অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। উদ্ভাবনী শক্তিতে উজ্জীবিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ কোম্পানি রবি আজিয়াটা ১৯৯৫ সালের ২২ অক্টোবর কার্যক্রম শুরু করে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইজাজউদ্দিন বিন ইদ্রিস।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে কোম্পানটি ২৪ কোটি টাকা টাকা মুনাফা করেছে। ২০১৬ সালে কোম্পানিটি ৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা লোকসান করে। ২০১৭ সালে ১ কোটি ৫ লাখ লোকসান করে।২০১৮ সালে ২১ কোটি ৪৭ লাখ এবং ২০১৯ সালে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মুনাফা করে।

২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির প্রতি শেয়ারে সম্পদদশ মূল্য ১২ টাকা ৬৪ পয়সা এবং প্রতি শেয়ারে মুনাফা দশমিক শূণ্য ৪ পয়সা।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের আইপিও ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস।

কত শেয়ার ছেড়ে কত টাকা তুলবে রবি

রবির আইপিও ইস্যু ম্যানেজারের দায়ত্বে থাকা আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রবি বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে ৩৮৭ কোটি ৭৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা তুলবে ।

এজন্য তারা ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ৪০০টি শেয়ার ছাড়বে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। এর বাইরে আরও ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৯৩৪টি শেয়ার রবি তাদের কর্মীদের কাছে বিক্রি করেছে। সেখান থেকে তারা ১৩৬ কোটি ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৪০ টাকা পেয়েছে।

সব মিলিয়ে রবি ৫২ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪টি শেয়ার থেকে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা তুলবে।

এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশের টাকা রবি পেয়ে গেছে। বিএসইসির অনুমোদন পেলে কর্মীদের শেয়ার বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে রবির আইপিও প্রসপেক্টাসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here