সিনিয়র রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করবে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। সংগৃহীত অর্থে কারখানা, প্রশাসনিক ভবন, গুদাম ও গ্যারেজ নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং আইপিও খাতে ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬১৩তম সভায় মঙ্গলবার কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়। মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্যে পুঁজিবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে দুই কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করবে কোম্পানিটি।

আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার কলেজ রোডে কোম্পানির কারখানা অবস্থিত। ২০১৪ সালে জুলাইয়ে কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। কোম্পানিটি দেশের বাজারে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির ওষুধ উৎপাদন করে থাকে। তাছাড়া ওষুধ প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিকও উৎপাদন করে। এর বাইরে ভেটেরিনারি ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।

আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত ২০ কোটি টাকার মধ্যে কারখানা, প্রশাসনিক ভবন, গুদাম ও গ্যারেজ নির্মাণ খাতে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আইপিও খরচ খাতে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় করবে কোম্পানিটি। আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে তহবিল ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটি বছরে ৮ কোটি ৭০ লাখ পিস ট্যাবলেট, ৪৩ কোটি ৫০ হাজার পিস ক্যাপসুল এবং ১৪ কোটি ৫০ হাজার লিটার তরল ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে মোট উত্পাদন সক্ষমতার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং ৬০ শতাংশ তরল ওষুধ উত্পাদন করছে কোম্পানিটি।

২০১৫-১৬ হিসাব বছরে কোম্পানির ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ৩০ জুন  পর্যন্ত এক বছরে কোম্পানির ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৬ কোটি ২ লাখ টাকা।

৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির আইপিও-পূর্ব শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা। এ সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ১১ টাকা ৬৩ পয়সা।

এদিকে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির ৪৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। নয় মাসে কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১ পয়সা, যা আগে ছিল ২ টাকা ১৭ পয়সা।

প্রসঙ্গত, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড, ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেড। কোম্পানিটির নিরীক্ষক মাফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here