আইপিওতে প্রিমিয়াম বাদ

1
7905

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্ধারিত মূল্যের পর প্রাথমিক শেয়ারে (আইপিও) আর প্রিমিয়াম (অধিহার) নয়। অভিহিত মূল্যের পর কোম্পানির শেয়ারে প্রিমিয়াম পেতে হলে ওই কোম্পানিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। সোমবার পাবলিক ইস্যু রুলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর আগে ৭ ডিসেম্বর রুলসটির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। শিগগিরই এ ব্যাপারে গেজেট প্রকাশ করা হবে। জানা গেছে, কোনো বেসরকারি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি হল নির্ধারিত মূল্যের আইপিও এবং অন্যটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি। নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানির ইস্যু মূল্য কত হবে, তা বিএসইসি ঠিক করে দেয়। কিন্তু বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে। কিন্তু এর আগে কিছু কোম্পানির আইপিওতে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছে বিএসইসি। ফলে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুসারে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ অথবা অভিহিত মূল্যে ১৫ কোটি টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ, অথবা পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা রয়েছে, সে কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারবে। শর্ত রয়েছে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে না। এছাড়াও যেসব শর্ত রয়েছে তা হল- বিএসইসির অডিটর প্যানেল দ্বারা আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করতে হবে, নিয়মিত সাধারণ সভা (এজিএম) করতে হবে, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইড লাইন মেনে চলা, পুঞ্জীভূত লোকসান বন্ধ, সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কমিশনের গাইড লাইন মানতে হবে। ফিক্সড প্রাইজ মেথডে আবেদনে আরও যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে তার মধ্যে রয়েছে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, কমপক্ষে ৩৫ শতাংশ শেয়ার আন্ডার রাইটারদের (অবলেখন) নেয়ার নিশ্চয়তা। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির জন্য আরও শর্তের মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে কমপক্ষে ১৫০ শতাংশ সম্পদমূল্য, টানা ৩ বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন। এর মধ্যে দুই বছরে মুনাফায় থাকতে হবে। কমপক্ষে পূর্ববর্তী ২ বছরে নিট কারেন্ট অ্যাসেট এবং নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পজেটিভ হতে হবে। ইস্যু ম্যানেজার এবং রেজিস্টার দ্য ইস্যু আলাদা হতে হবে।

পাবলিক ইস্যু রুলে বাংলাদেশে ব্যবসা বা বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৯ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হল মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যান্ড পোর্টফোলিও ম্যানেজার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক ডিলার, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজার এবং অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড।

1 COMMENT

নূরে আলম শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here