আইপিওতে ‘তরল মানি শুষছে’ বিতর্কিত দুটি কোম্পানি

1
5356

সিনিয়র রিপোর্টার : ‘বাজারে এখন যে দুটি কোম্পানি তরল মানি শুষে নিচ্ছে- দুটি কোম্পানি নিয়েই আছে তুমুল বিতর্ক। প্রথমেই তাদের হিসাবে গরমিল। এরপরে আইপিও স্থগিত। তাহলে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে যেসব কোম্পানি কাজ করেছে, তাদের অবস্থান কি? বিএসইসি বা আদালত তাদের কেন দণ্ড প্রদান করে না’।

আইপিও নিয়ে বিডিবিএল সিকিউরিটজের বিনিয়োগকারী মাহফুজার রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একই সঙ্গে দুটি কোম্পানি আইপিওতে তরল মানি শুষে নিচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরেও তিনটি কোম্পানি মন্দার বাজারে একই সঙ্গে ২১২কোটি শুষে নেয়। সেই তিনটি কোম্পানির আইপিও মধ্যে বর্তমানে দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বাজারে ভাল করতে পারেনি। আবার সেই কালচার, আইপিওতে এসে শুষছে তরল মানি।’

নভেম্বরে টাকা উত্তোলন করা কোম্পানিগুলো হলো- ইনফেরমেশন টেকনলজি কনসালটেন্টস লিমিটেডের (আইটিসি), এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ও ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিন্যান্স ফান্ড। এরমধ্যে আইটিসি লেনদেনর প্রথম দিনথেকেই বেশ ভালো করেছে। অন্য দুটির অবস্থা ভালো নয়।

ডরিণ পাওয়ার লিমিটেড ৮ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন শুরু করে শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি। এরপরে আবারো টাকা উত্তোলনের সময়সীমা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত কোম্পানির আইপিও স্থগিত করার নির্দেশ প্রদান করেছিল।

একই প্রক্রিয়ার হিসাবে গরমিল ও বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি না নেয়ায় আইপিও স্থগিত করে বিএসইসি। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কোম্পানির আইপিও আবেদন গত বছরের ৩০ জুন শুরু হয়ে ৯ই জুলাই পর্যন্ত হওয়ার কতা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ সময় পরে (৮মাস পর) কোম্পানিটি আবারো ১৭ নভেম্বর থেকে টাকা উত্তোলন শুরু করে। চলবে শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ডরিণ পাওয়ার লিমিটেড ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৫৮ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি ১ কোটি ৭৭ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। দুটি কোম্পানি মিলে তুলে নিচ্ছে ৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

একই সঙ্গে বস্ত্রখাতের ড্রাগন সোয়েটার লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে পুঁজিবাজার থেকে ৪ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানিটির ড্রাগনের লটারির ড্র মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। এখানে বিনিয়োগকারীদের বিপিুল পরিমাণ টাকা আটকা এবং একই সঙ্গে দুটি কোম্পানির আইপিও আবেদন নিয়ে ‘নেতি বাচক’ মন্তব্য করেন মাহফুজ।

ইনভেস্টমেন্টে কোম্পানির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসবের জন্য মূলত দায়ী ইস্যু ব্যবস্থাপক। তার শাস্তি হলেই আগামীতে দৃষ্টান্ত হতো এবং নতুন করে আর কোন অব্যবস্থাপনা করতে সাহস পেত না। একই সঙ্গে বিএসইসিকে আরো দূর দৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

পেছনের খবর : আইপিও স্থগিত ধারা এ্যাপোলো ইস্পাত থেকে সিমটেক্স

আরো খবর : বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্সের ‘আমলনামা’

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here