আইপিওতে আসা তুং হাই নিটিং কোম্পানির আমলনামা

0
2356

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংকে আমানত রাখার চেয়ে পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করে বেশি মুনাফার প্রত্যাশা করেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু ঋণ পরিশোধের জন্য পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্তি নেই বললেই চলে। সম্প্রতি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া তুং হাই নিটিংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।

জানা গেছে, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ১০ টাকা ফেস ভ্যালুতে ৩ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। সংগৃহীত অর্থের ১৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ, ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, মূলধনী বিনিয়োগ ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও ২ কোটি ৮ লাখ টাকা আইপিও খরচ বাবদ ব্যয় করা হবে। সংগৃহীত অর্থের সিংহভাগ ঋণ পরিশোধের কারণে সুদের অর্থটুকুই শুধু মুনাফায় যোগ হবে। অথচ ওই পরিমাণ অর্থ কার্যকরী মূলধনে যোগ হলে কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধি তুলনামূলক বাড়ত।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে ৬.৪ শতাংশ, ২০১০ সালে ১২.৩০ শতাংশ, ২০১১ সালে ২০.৬ শতাংশ, ২০১২ সালে ১১.৫ শতাংশ ও ২০১৩ সালে ১৩.৯ শতাংশ হারে মুনাফা করেছে তুং হাই নিটিং। উল্লিখিত ৫ বছরে গড়ে ১২.৯৪ শতাংশ হারে মুনাফা করেছে কোম্পানিটি।

এ কোম্পানির রিটার্ন অন ইক্যুইটির (ইক্যুইটির তুলনায় মুনাফা) হার আরও কম। সর্বশেষ অর্থবছরে রিটার্ন অন ইক্যুইটির হার দাঁড়িয়েছে ৯.১৮ শতাংশ। সর্বমোট ৪৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূলধনের এ কোম্পানির ইক্যুইটির পরিমাণ (মূলধন+রিজার্ভ) ৬৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। বিগত বছরগুলোতে লভ্যাংশ সম্পূর্ণ না দিয়ে ও সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করে রিজার্ভ বাড়ানো হলেও মুনাফা ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৩ সাল শেষে তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ারপ্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৫.১১ টাকা, যা আইপিও পরবর্তী সময়ে দাঁড়াবে ১২.৮৮ টাকায়। অর্থাৎ তুং হাই নিটিংয়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা বিনিয়োগ করলে ১২.৮৮ টাকা সম্পদের মালিক হবেন।

এ ছাড়া কোম্পানিটি বিগত ৫ বছরে যে হারে মুনাফা করেছে তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আইপিও পরবর্তী সময়ে শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ারপ্রতি ১.২৯ টাকা বা ১২.৯৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। কোম্পানিটি যদি আইপিও পরবর্তী ব্যবসায়িক উন্নতি করতে পারে, তাহলে শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্তির পরিমাণ আরও বাড়বে। তবে আইপিও পরবর্তী অন্য কোম্পানির মত ফলাফল করলে লভ্যাংশের পরিমাণ কমে যাবে। কারণ, ২০১২ সালে আইপিওতে আসা ৯টি কোম্পানির মধ্যে ৭টির মুনাফা ক্রমান্বয়ে কমেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ কোম্পানি মুনাফার পুরোটা লভ্যাংশ হিসেবে দেয় না। তুং হাই নিটিং শেয়ারপ্রতি ১.২৯ টাকা বা ১২.৯ শতাংশ মুনাফা করে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটি মুনাফার পুরো না দিলে সর্বোচ্চ ১ টাকা বা ১০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিতে পারে।

এমতাবস্থায় একজন বিনিয়োগকারী যদি টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করেন, তাহলে ঝুঁকি ছাড়াই ১০-১২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। আর তুং হাই নিটিং ব্যবসায় করতে গিয়ে নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি বিগত বছরের তুলনায় মুনাফা বেশি বা কম উভয়ই করতে পারে।

ফলপ্রসূ ব্যবসা ও নিয়মিত লভ্যাংশ দিলে ব্যাংকে টাকা জমা রাখার চেয়ে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উত্তম বলে মনে করেন তুং হাই নিটিংয়ের সচিব মিজানুর রহমান মৃধা। এক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারী নিয়মিত লভ্যাংশ পান এবং বিনিয়োগও বাড়ে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিক থেকে তুং হাই নিটিংয়ের ব্যবসা ফলপ্রসূ হওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করতে পারে বলে তিনি জানান।

বিনিয়োগের আগে অবশ্যই একজন বিনিয়োগকারীর কোম্পানির ভবিষ্যৎ ও বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করা উচিৎ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের আবু আহমেদ। তিনি জানান, একটি কোম্পানি গত কয়েক বছরে কী হারে মুনাফা করছে ও কী হারে লভ্যাংশ দিতে পারে, তা বিবেচনা করে বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে ওই বিনিয়োগকারীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি ঝুঁকি নিয়ে কোম্পানিতে নাকি ঝুঁকিহীন ব্যাংকে বিনিয়োগ করবেন।

তিনি আরও জানান, যদিও ইতোমধ্যে আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোতে উল্টাপাল্টা হয়েছে, তারপরও একটি কোম্পানি আইপিওতে আসার পর ব্যবসায় ভালো করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্তির পরিমাণ বাড়তে পারে।

তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ২০০৪ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ২০১১ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। কোম্পানিটি বাণিজ্যিক অপারেশনে আসে ২০০৫ সালের ১৩ মে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫১০ তম সভায় এ কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী ১৮ মে থেকে এ কোম্পানির আইপিও আবেদন জমা নেওয়া শুরু হবে। স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা ২২ মে পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসীদের জন্য এ সুযোগ থাকবে ৩১ মে পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here