আইপিওতে আসছে ৮টি কোম্পানি

30
63365

শাহীনুর ইসলাম : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে (আ্ইপিও) পুঁজিবাজারে আসার অপেক্ষা করছে ৮টি কোম্পানি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন অপেক্ষায় রয়েছে কোম্পানিগুলো। বিএসইসি সূত্রে বুধবার এই তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি এর আগে আমান গ্রুপের আমান ফিড কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছে। আমানসহ ৯টি কোম্পানি অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। বাকি ৮টি কোম্পানি প্রিমিয়ামসহ টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছে বিএসইসির কাছে। ইতোমধ্যে আইপিও প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিগুলোর সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ শেষ করেছে বিএসইসি।

এরইমধ্যে আমান ফিড লিমিটেডের আবেদন আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও এই সময়ের মধ্যে আওতাভুক্ত হবেন। তবে শর্ত হচ্ছে- ব্যাংকের মাধ্যমে আর আইপিও আবেদন করা যাবে না। নতুন নিয়মে শুরু হচ্ছে কোম্পানিটির আবেদন প্রক্রিয়া। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে লংঙ্কাবাংলা।

প্রক্রিয়াধীন অন্য কোম্পানিগুলো হলো- রিজেন্ট টেক্সটাইল, লির্ডস কর্পোরেশন, ডরিন পাওয়ার, কেডিএস এক্সোসরিজ, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, আফতাব হ্যাচারি, আরিয়ান কেমিক্যাল ও সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

রিজেন্ট টেক্সটাইল : বস্ত্র খাতের হাবিব গ্রুপের রিজেন্ট টেক্সটাইল বাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। এর মাধ্যমে তারা বাজারে ৫ কোটি শেয়ার ছাড়তে চায়। প্রিমিয়ামসহ তাদের অফার মূল্য আসতে পারে ২৫ টাকা। সর্বশেষ আর্থিক হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৯২ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৩১ টাকা ১৭ পয়সা।

লির্ডস কর্পোরেশন : পুঁজিবাজারে আসছে আইটি কোম্পানি লির্ডস কর্পোরেশন। কোম্পানিটি বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম সেবা দিয়ে থাকে। এ কোম্পানিটি বাজারে ১ কোটি ৬৫ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এর মাধ্যমে তারা বাজার থেকে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা তুলতে চায়।

কোম্পানিটি ২২ টাকা দরে বাজারে শেয়ার বিক্রি করবে। সর্বশেষ আর্থিক হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

রিজেন্ট টেক্সটাইল ও লির্ডস কর্পোরেশন কোম্পানির ইস্যু ম্যানেোর হিসেবে রয়েছে লংঙ্কাবাংলা।

ডরিন পাওয়ার জেনারেশন : কোম্পানিটি বাজার থেকে প্রায় ৬২ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ২১ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩১ টাকা দরে শেয়ার বিক্রির জন্য আবেদন করেছে বিএসইসির কাছে। বিএসইসির অনুমোদন পেলে এ কোম্পানিটি বাজার থেকে টাকা তোলার কাজ শুরু করবে।

কোম্পানিটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৯৫ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি হয়েছে ৩৪ টাকা ৮৭ পয়সা। ডরিন পাওয়ারের ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে রয়েছে অ্যালায়েন্স।

কেডিএস এক্সেসরিজ: কোম্পানিটি বাজার থেকে ২৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করতে চায়।

কোম্পানিটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৪ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি হয়েছে ১৯ টাকা ৬৩ পয়সা।  ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে রয়েছে অ্যালায়েন্স।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স : বাজার থেকে প্রায় ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায়। তবে সব কিছুই নির্ভর করবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের উপর। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রির জন্য আবেদন করেছে বিএসইসির কাছে।

কোম্পানিটির ২০১২ সালে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৯৫ পয়সা ও ২০১৩ সালে তা হয়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি ছিল ১৬ টাকা ৬১ পয়সা ও ১৬ টাকা ৪৭ পয়সা।

এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডাদের ২০১১ সালে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৪ শতাংশ। এর মধ্য ১২ শতাংশ নগদ ও ১২ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৩ সালে দিয়েছিল ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সর ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে ত্রিপল এ।

আরিয়ান কেমিক্যাল : কোম্পানিটি বাজারে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে সোনালী ইনভেস্টমেন্ট।

সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ : কোম্পানিটি ১৫ টাকা প্রিমিয়ামে শেয়ার বিক্রির আবেদন করেছে। ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ শেয়ারের প্রস্তাবিত বিক্রি মূল্য ২৫ টাকা। বিএসইসি অনুমোদন পেলে কোম্পানি ৩কোটি শেয়ার ইস্যু করবে। আর এর মাধ্যমে বাজার থেকে সংগ্রহ করবে ৭৫ কোটি টাকা। কোম্পানিটির জন্য একই সঙ্গে আইডিএলসি, এএফসি ক্যাপিটাল ও ইম্পেরিয়াল যৌথভাবে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী মাহবুব এইচ মজুমদার বলেন, আমরা বিএসইসিতে প্রতিষ্ঠানটির আইপিওর প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছি। কমিশনের অনুমোদন পেলে কোম্পানিটি বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে।

30 মন্তব্য

  1. এই অবস্থায় উচ্চ প্রিমিয়াম অনুমোদন দেবার মানে কি? আর হাউজের সাথে ব্যাংকেও আইপিও শেয়ার জমা দেবার ব্যবস্থা করা দরকার নাহলে লটারীতে বিফল এর তালিকা দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

  2. It is very sad news for share market. Because now this situation need money for servive to live share marker. On the other hand money will leak out from share market, which will be bad effect in shareshare market and more weak in day by day.pls change khairul alam and replace such like Khalil Ibrahim or others honoest man.other wise Our share market will destroy in future.

  3. Companies who are interested to obtain capital from the share market are claiming premium is not not justified and I think Issue Manager should verify properly then decide about premium. For example Hamid Fabrics obtained Tk. 25 extra as premium now what is their market price now. Any one can think about it? I have lost more than Tk. 6000/- againt 600 nos of Share of HFL. Many more investers are also loos by investing like this. Companies who are cliaming premium should now allow to come to the market. I request SEC and Issue Manager to consider this.

  4. প্রতি মাসে এক টা করে আসা উচিত। অামরা যারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী তাড়া গণগণ আইপিও ধরতে পারিনা। তাই প্রতি মাসে একটার বেশি আসলে আমাদের সমস্যা হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY