আইপিওতে আসছে বঙ্গবন্ধু সেতু

0
13077

বিশেষ প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু সেতু; যোগাযোগ এবং উন্নয়নের সেতুবন্ধন। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলকে একত্রিত করে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সহায়তা করেছে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ এই সেতু। বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু দেশের গতি ফিরিয়ে এবার পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে তালিকাভুক্তির চেষ্টা করছে সরকার। 

২০১০ সালের ডিসেম্বরে সরকারি সব কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজার ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তালিকায় রাখা হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বঙ্গবন্ধু সেতু। ইতোমধ্যে সরাসরি তালিকাভুক্তির কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সূত্র মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

দেশের গতি ফিরিয়ে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছল গতি আনতে আইপিওভুক্তির চেষ্টা চলছে। এমনি আলোচনা চলছে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ‍ায়িত মানুষগুলোর মুখে। তবে কেউ এই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু সেতু কার্যক্রম নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে নারাজ।

বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ৫ম এবং বিশ্বের ৯২তম দীর্ঘ সেতু। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে এটি উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের ৩টি বড় নদীর মধ্যে বৃহত্তম এবং পানি নির্গমনের দিক থেকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ নদী যমুনার উপর এটি নির্মিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামানুসারে সেতুটির নামকরণ হয় বঙ্গবন্ধু সেতু। বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে দুই অংশকে একত্রিত করেছে। এই সেতু নির্মাণের ফলে জনগণ বহুভাবে লাভবান হচ্ছে এবং এটি আন্তঃআঞ্চলিক ব্যবসায় ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সড়ক ও রেলপথে দ্রুত যাত্রী ও মালামাল পরিবহণ ছাড়াও এই সেতু বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চালন এবং টেলিযোগাযোগ সমন্বিত করার সুযোগ করে দিয়েছে।

সেতুটি নির্মাণে মোট খরচ হয় ৯৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইডিএ, এডিবি, জাপানের ওইসিএফ প্রত্যেকে ২২ শতাংশ তহবিল সরবরাহ করে এবং বাকি ৩৪ শতাংশ ব্যয় বহন  করে বাংলাদেশ। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.৫ মিটার।

বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতুর সঙ্গে সরকারের আইপিও ছাড়ার তালিকায় রয়েছে- বিদ্যুৎ বিভাগের রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতায় লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড, গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি।

তালিকার মধ্যে ছিল- সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, যুমনা ওয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস কোম্পানি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল টিউবস, চিটাগাং ড্রাইডক, জিইএম কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড, কর্ণফুলী পেপার মিলস, বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর অ্যান্ড সেনিটারি ওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল ইন্টারন্যাশনাল সোনারগাঁও হোটেল, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের রূপসী বাংলা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড। ডাক, তার ও টেলিযোযোগ মন্ত্রণালয়ের টেলিটক বাংলাদেশ, বিটিসিএল, বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প, টেলিফোন শিল্প সংস্থা ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here